বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » পেরুকে হারিয়ে ফাইনালে স্বাগতিক চিলি

পেরুকে হারিয়ে ফাইনালে স্বাগতিক চিলি

chili২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো চিলির। পৌঁছে গেলো স্বপ্নের আরও কাছাকাছি। ঘরের মাঠেই কোপা আমেরিকা ট্রফি জয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করে রাখল অ্যালেক্সিস সানচেজের দল। আজ ভোরে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে পেরুকে ২-১ হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে উঠে গেল তারা। শিরোপা তুলে ধরার চেয়ে আর মাত্র একধাপ দূরে রইল চিলি।

আজ ভোরে কোপা আমেরিকার এই ম্যাচ যেমন দেখল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তেমনই আবার দেখল কেন চিলি এখন হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। দলে যেমন গতি। তেমন ফুটবলারদের দ্রুত মুভমেন্ট। পেরুর বিরুদ্ধেও সেটাই হল। বিশেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের হয়ে একেবারে বাজে মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের হয়ে যেন পুরো জ্বলে উঠলেন এডুওয়ার্ডো ভারগাস।

শুরু থেকেই সানচেজ-ভালিদিভিয়ারা আক্রমণ তৈরি করতে থাকে উইং দখল করে। ছোট ছোট পাস খেলে। সুইচ প্লে করে চিলি আত্মবিশ্বাসী মেজাজে শুরু করে। তবে চিলির  ঘরের মাঠে খেললেও সাহস দেখায় পেরু। গুটিয়ে বসে না থেকে আক্রমণের জবাবে আক্রমণ করে। জেফারসন ফারফানের হেড যেমন দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বারপোস্টে লাগে। আবার লোবাতনের শট নেটের ধারে গিয়ে লাগে, কিন্তু গোল হয় না।

ফুটবলারদের তর্কাতর্কি বা রেফারির পকেট থেকে লাল কার্ড বেরোনো— এ সবই চেনা ছবি হয়ে গেছে যেন কোপায়। চিলি-পেরু ম্যাচেও ধরা পড়ল একই ছবি। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি চিলির আরানগুইজকে পিঠে লাথি দেওয়ার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন পেরুর কার্লোস জামব্রানো। রেফারির এই সিদ্ধান্তে পেরুর ফুটবলাররা তেড়ে যান তার দিকে। কিন্তু বুলেট বের হয়ে গেলে যেমন ফেরানো যায় না, লাল কার্ডও ঠিক তাই। দশ জনের দলে পরিণত হওয়া পেরুর রক্ষণকে এরপর আরও বেশি নাজেহাল করতে থাকে‌ন স্বাগতিকরা। অবশেষে সাফল্যটাও ধরা দেয়। সানচেজের কার্ল করা শট বারপোস্টে লাগলেও ফিরতি বলে গোল করে চিলিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এডওয়ার্দো ভারগাস।

তবে বিরতির পরে সমতা ফেরানোর সু্যোগ তৈরি করে পেরু। কি‌ন্তু চিলি হাই প্রেস করায় বল বেশি দখলে রাখতে পারে‌‌নি তারা। যদিও ফারফান একটা ভাল সু্যোগ পেয়ে নষ্ট করেন। কিন্তু লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে গোলটা ঠিকই আদায় করে নেয় পেরু। এক পেরুভিয়ান ফুটবলারের  ক্রস থেকে বল বাইরে পাঠাতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে আত্মঘাতী গোল করেন চিলির গ্যারি মেডেল।

সান্তিয়াগোর গ্যালারি তখন পুরোপুরি স্তব্ধ। চিলি সমর্থকরা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যেন, পেরু দশ জন নিয়েও ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করবে। যদিও খুব দ্রুতই সেই ছবি পাল্টে যায়।  প্রায় ৩০ গজ থেকে দুর্দান্ত লং রেঞ্জ শট নিয়ে ২-১ করেন সেই ভারগাসই। যা ছিল দেশের জার্সিতে তার ২২তম গোল।

এই গোলের পরই সান্তিয়াগোর গ্যালারি আবার যে‌‌ন জেগে ওঠে। চিলি সমর্থকরা আবার বলতে থাকেন- ‘কোপা আমাদের ঘরে আসছে।’ গত মওসুমে ইং‌‌ল্যান্ডের ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের হয়ে পুরোপুরি ফ্লপ মারা ফুটবলার ভারগাস দেশের জার্সিতে যে‌‌ অন্য কোন ফুটবলার। সতীর্থদের সঙ্গে কম্বিনেশন তৈরি করে গোটা ম্যাচেই ক্রমাগত উপর-নীচ করেন তিনি।  আবার গোলের আশে পাশে থেকে বিপদে ফেলেন পেরুর রক্ষণকে।

গোটা টুর্নামেন্টেই মনোরঞ্জক ফুটবল উপহার দিয়েছে চিলি। কোপায় অনেক দলের পাশে ‘বোরিং’ তকমা বসলেও, চিলি কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলেছে। গোলও করেছে।

১৯৪১-এর পরে টানা দশ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছুয়েছে এই দল। প্রথম বারেরমত কোপা জয়ের জন্য আর মাত্র একটা বাঁধা। হয় আর্জেন্টিনা নয় প্যারাগুয়ে। তবে এই ম্যাচের মতো এত গোলের সু্যোগ নষ্ট করলে হয়তো সেই বাঁধা টপকে কোপার ট্রফি ছোয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে চিলির জন্য।

এ নিয়ে পঞ্চমবারেরমত কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠল চিলি। যদিও আগের চারবারের একবারও ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয়নি তাদের। আর ১৯৮৭ সালের পর (২৮ বছর) এই প্রথম ফাইনালে উঠল চিলিয়ানরা। এর আগে সর্বশেষ সেমিফাইনাল খেলেছিল ১৯৯৯ সালে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print