সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগে বরিশালে ১০ পুলিশ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগে বরিশালে ১০ পুলিশ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

Kishoreganj,+32++Arrest+Pictureপদোন্নতি দেওয়ার আশ্বাসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১০ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি আদেশ গত ২৭ জুন দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন দপ্তরে এসে পৌঁছায়।

এরা হলেন- রিজার্ভ অফিসের এএসআই আনিসুজ্জামান, এএসআই (বিএমপি নং ৯০) মনির হোসেন, নায়েক (বিএমপি নং ৩৩৫) মো. কবির হোসেন, ড্রাইভার (কং নং ৯৭৮) শহীদুল ইসলাম, (কং নং ৩৬৩) বাবলু জোমাদ্দার, রেশন স্টোর কিপার (কং নং ৭৯৭) মো. আব্বাস উদ্দিন, (কং নং ৭২২) আরিফুর রহমান, ডিবির কনস্টেবল (কং নং ৪১৩) তাপস কুমার মণ্ডল, ড্রাইভার (কং নং ৫২৫) দোলন বড়াল ও এএসআই হানিফ।

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার শোয়েব আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। তারা সিকিউরিটি সেলের পাশাপাশি আলাদাভাবে তদন্ত করবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জড়িতদের ব্যাপারে আরও তদন্ত চলছে। প্রমাণ হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, প্রায় ২ বছর আগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন ৫ হাজার ৯০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়ে আবেদন করা হয়। এতে ৮শ’র বেশি পদের অনুমোদন দেয় সংস্থাপন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ্য থেকেও অনুমোদন আসে এ প্রস্তাবে।

এর আগেই বরিশালে মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রায় ২৩০ জন কনস্টেবল রয়েছেন যারা পদোন্নতি পরীক্ষায় পাস করে বসে আছেন শূন্য পদ সৃষ্টির আশায়। এ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে ওই কনস্টবেলদের  কাছ থেকে  নায়েক এবং হাবিলদার পদের জন্য মাথাপিছু ৩০ হাজার ও এএসআই পদের জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেয় একটি চক্র।

এজন্য পুলিশের একজন এএসআই ও দুজন কনস্টেবলের নামে ব্যাংকে একটি যৌথ অ্যাকাউন্টও খোলা হয়। যেখানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা তোলে চক্রটি। যদিও এর মধ্যে মাত্র ১৬ লাখ টাকার সন্ধান মিলেছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বাকি টাকার সঠিক কোনও খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

এভাবে টাকা ওঠানোর বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার জানতে পেরে তদন্তে নামে সিকিউরিটি সেল। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৭ জুন ঢাকায় সিকিউরিটি সেলে তলব করা হয় বরিশাল উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমানের বডিগার্ড কনস্টেবল বাবলু, অস্ত্রাগারে কর্মরত পুলিশের নায়েক কবির এবং বরিশাল মেট্রোর আওতাধীন কাউনিয়া থানায় কর্মরত এএসআই মনিরকে।

এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যানুযায়ী দ্বিতীয় দফায় গত ১৯ জুন জরুরি তলব করে ঢাকায় নেওয়া হয় রির্জাভ অফিসার-২ এএসআই আনিসকে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরিশালে কর্মরত এএসআই (স্বশস্ত্র) কামালকেও ঢাকায় ডেকে নেয় সিকিউরিটি সেল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে তারা।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print