বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » শিক্ষা-রপ্তানি-ইন্টারনেটে কর কমছে

শিক্ষা-রপ্তানি-ইন্টারনেটে কর কমছে

mohitপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যে রপ্তানি মূল্যের ওপর প্রস্তাবিত উৎসে কর এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে আরোপিত ভ্যাটের পরিমাণ কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় তিনি এ প্রস্তাব আনেন।

অর্থমন্ত্রী তার প্রস্তাবে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যে রপ্তানি মূল্যের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে যে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল তা কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি।

এরআগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি বিষয়সহ মোট ছয়টি প্রস্তাবে পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। এ দুটির বিষয়ে তিনি অনুরোধ করেন যেন পোশাক খাতে আরোপিত উৎসে কর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর ১০ শতাংশের বদলে ৭.৫ শতাংশ মূসক (ভ্যাট) আরোপ করা হয়।

প্রথা অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার সমাপনী বক্তব্যে এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং সংসদে সংশোধনের জন্য উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ মানে আমাদের কাছে নির্দেশের মতো। সুতরাং উনি যেগুলো নিয়ে কথা বলেছেন সেগুলো অবশ্যই হয়ে যাবে।’

বিদায়ী বাজেটে তৈরি পোশাক রপ্তানি মূল্যের উপর শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হত। ৪ জুন অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন তাতে রপ্তানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর কাটার কথা বলা হয়।

বাজেটের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে সব ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর এই সুযোগ দেন, আগামীতে ভালো করলে আপনি বাড়াবেন।’

এছাড়া ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে সব ধরনের আমদানি শুল্কসহ সব শুল্ক-কর প্রত্যাহারের অনুরোধও করেন প্রধানমন্ত্রী। হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের প্রতিষেধক, ভেষজ ও হারবাল ওষুধের কাঁচামালে ছাড় দেয়ার আহ্বান জানালে অর্থমন্ত্রী এসব ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য সংসদে সংশোধনীর জন্য তা উপস্থাপন করেন।

পোল্ট্রি ও মৎস্য শিল্পে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ করার অনুরোধ জানান তিনি। এটিও অর্থমন্ত্রী অর্থবিলে সংশোধনীর জন্য তুলে ধরেন।

এছাড়া ইন্টারনেটে সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ কর কমিয়ে ৩ শতাংশে এবং ই-কমার্স ব্যবসার ওপর প্রস্তাবিত ৪ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print