শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » কলেজ » বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা

বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা

বেতন কাঠামোপ্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আগামী জুলাই থেকে বাস্তবায়নযোগ্য এই স্কেল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বেতন স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠাবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা কার্যকর হবে। বেতন স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড রাখা-না রাখা, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের পাওনা জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে কি না, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ইত্যাদি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনক্রম নির্ধারণ নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। ভাতার ওপর নতুন করে ধার্যকৃত কর নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতিপূর্বে বলেছিলেন, বেতন-ভাতা যখনই চূড়ান্ত করা হোক তা ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বেসরকারি বা সরকারি শিক্ষকরা জুলাই থেকে না পেয়ে নতুন স্কেলে বেতন পাবেন জানুয়ারি ২০১৬ থেকে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তারা জুলাই থেকে নতুন বেতন স্কেল তাদের জন্য কার্যকর করা ছাড়াও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দাবি করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতনক্রম গ্রেড-১ এ রাখা নিয়েও কথা হচ্ছে। তালিকায় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদধারীরাও রয়েছেন। বিদ্যমান বেতন স্কেলে সচিবরা গ্রেড-১ ভুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গ্রেড-১ থেকে বাদ দেয়ায় তারা আন্দোলনের হুমকি দেন। পরে সচিব, সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও মেজর জেনারেলদের বেতনকাঠামো এক নম্বর গ্রেডে রাখার সুপারিশ করে আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় সচিব কমিটি। এদের সবার মূল বেতন হবে ৭৫ হাজার টাকা। এতে পুরোপুরি খুশি নন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। তারা চান স্বতন্ত্র উচ্চতর বেতনকাঠামো। তবে আপাতত সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকগণ সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিবের মতো এবং অন্য শিক্ষকেরা আগের মতোই সম্মান ও বেতনক্রম চাচ্ছেন।
এদিকে সচিবরা একই গ্রেডে সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের না রাখার পক্ষে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সচিব ইত্তেফাককে বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের হুমকিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এতে সচিবদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্য ও জ্যেষ্ঠ সচিব এবং তিন বাহিনীর প্রধান পদের জন্য গ্রেড থাকছে না। এটি অবশ্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও নেই। সেখানে সচিবরা সকল গ্রেডের ঊর্ধ্বে।
সচিবদের কোন গ্রেড দ্বারা মর্যাদা নির্ধারণের বিরোধিতা করে কয়েকজন সচিব বলেন, এখন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক দপ্তর-অধিপ্তরের প্রধান পদ গ্রেড-১ ভুক্ত। একজন সচিব ও তার অধীন প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ যদি একই গ্রেডের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন সেক্ষেত্রে সচিবের নির্দেশ তিনি নাও অনুসরণ করতে পারেন। বরং এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
এদিকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল দেয়ার প্রথা বাদ দেয়ায় ক্ষুব্ধ নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীরা। তাদের অভিযোগ, এতে লাভবান হবেন খুব কম সংখ্যক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বেশিরভাগ কর্মচারী। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যারা এখন আর টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্তির যোগ্যতায় নেই তেমন কিছু কর্মকর্তার লাভের জন্য এ প্রথা বাদ দেয়া ঠিক হবে না। সময়মতো পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর স্কেলে বেতনভুক্ত হতে পারেন না-বলে নির্ধারিত মেয়াদের পর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। এতে তারা পদমর্যদা না পেলেও আর্থিক সুবিধা পান।
সরকারি ও বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। তারা জুলাই থেকে নতুন বেতনক্রম পাবেন কি না সেটি এখনো নিশ্চিত করেনি অর্থ বিভাগ। পাশাপাশি শিক্ষকদের দাবি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল। সেটিও কবে পূরণ হবে তা অনিশ্চিত। শিক্ষা কমিশন আইন হলে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতনক্রম নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ঝুলিয়ে রাখা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দীর্ঘদিনেও আলোর মুখ দেখলো না। নানা হাত ঘুরে এটি এখন অর্থবিভাগের হাতেই। অর্থ বিভাগ বলছে, ব্যাংকের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের বিষয়টি জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর দেখা যাবে।
অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলছেন, বেতন স্কেল বাস্তবায়নে এবার জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যতটা সম্ভব সমন্বয় করার। এ কর্মকর্তার মতে, সবকিছু সমন্বয় করে সচিব কমিটির সুপারিশের আলোকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন ও চাকরি কমিশন গঠন করে সরকার। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ওই কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঞার নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা কমিটি গত ১৩ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print