শুক্রবার , ২০ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » ১৬ বছরে শেষ হয়ে যাবে মজুদ গ্যাস

১৬ বছরে শেষ হয়ে যাবে মজুদ গ্যাস

nosrul hamidদেশের বর্তমান মজুদ গ্যাস আগামী ১৬ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। একই সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে গ্যাসের সরবরাহও কমবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সরকারি দলের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রাথমিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস ছিল ২৭ দশমিক ১২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট)। এর মধ্যে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত ১২ দশমিক ৯৬ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ১৪ দশমিক ১৬ টিসিএফ গ্যাস মজুত আছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ৮১৫ দশমিক ৯৮ বিসিএস (বিলিয়ন কিউবিক ফুট) উত্তোলন করা হয়েছে। গ্যাস উত্তোলনের এই হার অব্যাহত থাকলে মজুদ গ্যাস ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। একসঙ্গে গ্যাসে চাপ কমে যাওয়ার কারণে গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে।

পিনু খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১২ বছরে দেশে মোট নতুন ৮১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে কেন্দ্রের ৭৫টিই বর্তমান সরকারের আমলে স্থাপন করা হয়েছে।

নসরুল হামিদ বলেন, বিগত ১২ বছরে দেশে নতুন ৮১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ছয় হাজার ৮৬৫ মেগাওয়াট। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৭৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোট পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

মন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিগত ১২ বছরে বিদ্যুৎ খাতে যে ৮১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে তার মধ্যে ২০০৪ সালে ৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াট, ২০০৫ সালে ২৮ মার্চ টঙ্গীতে ১০৫ মেগাওয়াট, ২০০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক ২৫০ মেগাওয়াট, একই বছর ১৬ ডিসেম্বর সামিট পাওয়ার (আরইবি) ১০৫ মেগাওয়াট এবং ওই বছর জুন মাসে আরপিসিএল ২১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের ৭০ মেগাওয়াট উৎপাদনে যায়।

এছাড়া ২০০৮ সালে ১৬৪ মেগাওয়াটের ৫টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৯ সালে ৩৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ২০১০ সালে ৭৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২০১১ সালে এক হাজার ৭৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২০১২ সালে ৯৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২০১৩ সালে ৬৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২০১৪ সালে ৬৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২০১৫ সালে ৮১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এই পর্যন্ত ভাড়ায় নির্মিত ৩১টি কেন্দ্র বিদ্যমান এবং কেন্দ্রগুলোর বিপরীতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার ১৩৭ মেগাওয়াট।

নসরুল হামিদ জানান, এ পর্যন্ত ৭৪৮ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৪টি রেন্টাল এবং এক হাজার ৩৮৮ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৭টি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে।

মো. আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রয়ে বর্তমানে সরকার কোন ভর্তুকি প্রদান করছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। উক্ত কয়লা খনিটি বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কো. লি. এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মোট আয় হয়েছে ৮২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৪৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। একই বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি লাভ করেছে ৩৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print