বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » আত্মগোপনে রফিউর রাব্বি, পোস্টারে সয়লাব না.গঞ্জ

আত্মগোপনে রফিউর রাব্বি, পোস্টারে সয়লাব না.গঞ্জ

postr rabbiনারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নিহত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।   গতকাল শনিবার এবং আজ রবিবার দুপুরে রফিউর রাব্বির শায়েস্তাখান সড়কে পুরাতন কোর্টের সামনের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে পুলিশ তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি ) তদন্ত শাহজালাল জানান, রফিউর রাব্বির চেক জালিয়াতি মামলার এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে ধরতে বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সচেতন জনগণের ব্যানারে রফিউর রাব্বি ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে তাকে ধরিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়ে আপত্তিকর পোস্টারে ছেয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন দেয়াল ও অলিগলি। পোস্টারে লেখা রয়েছে “চেক জালিয়াতি মামলার আসামি বাটপার রফিউর রাব্বিকে ধরিয়ে দিন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির এক নেতা জানান, রফিউর রাব্বিকে সমাজে হেয় করার জন্য নারায়ণগঞ্জের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ইশারায় শহরজুড়ে রাব্বির ছবি সম্মিলিত আপত্তিকর পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, রফিউর রাব্বি তার ছেলে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হত্যাকারী হিসেবে ওই পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে আসছেন। তিনি বলেন, রফিউর রাব্বিকে মুখ বন্ধ করতেই তার বিরুদ্ধে এসব করা হচ্ছে। শহরে মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, রফিউর রাব্বি ছেলে এবং সন্তান ও মানসম্মান সব হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ গঠন করে সন্তান হত্যাকাণ্ডের জন্য সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানকে দায়ী করে আসছেন। ওসমান পরিবারে বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই আজ তার এই পরিণতি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশীদের আদালত ৭০ লাখ টাকার একটি চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মামাশ^শুর জালালউদ্দীন আহম্মদ বাদী হয়ে ৭০ লাখ টাকার দুটি চেক জালিয়াতির মামলা করেন। মামলায় জালালউদ্দীন আহম্মেদ উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ স্ট্যান্ডার্ট চার্টার্ড ব্যাংকে ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এবং একই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি  রফিউর রাব্বি জালালউদ্দীনকে ৭০ লাখ টাকার দুটি চেক প্রদান করেন। চেক দুটি ১৬ ফেব্রয়ারি প্রত্যাখ্যাত হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসে। পরবর্তী সময়ে ২২ ফেব্রুয়ারি লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানানো হয়। নোটিশ গ্রহণ করেন মার্চের ১ তারিখে। যার মেয়াদ শেষ হয় ৩০ মার্চ। কিন্তু টাকা পরিশোধ করেননি রাব্বি। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে এ সাজা দেয়া হয়। এদিকে আগামী ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী লিপি ওসমানের মানহানি মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহম্মেদের আদালতে সাক্ষগ্রহণেরর্ দিন ধার্য করেছে। লিপি ওসমানের পক্ষে ওই মামলা

করেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় ওই মামলা দায়ের করা হয়। রাব্বির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর গত ২০১৩ সালের ১ জুন রাব্বিও জালালউদ্দীন ও মাসুদ উর রউফের বিরুদ্ধে প্রতারনার মামলা দায়ের করেছিলেন।

জালালউদ্দীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মামাশ্বশুর ও সম্মিলিত আইনজীবী  সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ উর রউফ আওয়ামীপন্থী আইনজীবী। ২০১৩ সালের ১ জুন রাতে বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন রাব্বি।  মামলায় তাদেরকে বিবাদী করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে রফিউর রাব্বির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, নিম্ন আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।

তিনি জানান, একটি জমিসংক্রান্ত বিষয়ে বিচার শালিসের মাধ্যমে এই চেক দেয়া হয়েছিল। চেকটি জালাল উদ্দিন আহমেদের আইনজীবী মাসুদ উর রউফের কাছে ছিল। কিন্ত পরে তারা নিজ হাতে টাকার অংক বসিয়ে চেক ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত করিয়ে এই মামলা দায়ের করে।

– See more at: http://www.dhakatimes24.com/2015/06/28/72047/%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF,-%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%9F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%A8%E0%A6%BE.%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C#sthash.steSdInQ.dpuf


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print