শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বন্যায় কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা ১৯ : সর্বত্র হাহাকার

বন্যায় কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা ১৯ : সর্বত্র হাহাকার

COXS-Bazar-Flood-pic-BM01কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে তবে কোন কোন স্থানে পানি নামতে শুরু করেছে। উপর থেকে পানি নিচের দিকে নামতে শুরু করায় এবং অধিকাংশ স্লুইচ গেইটগুলো বন্ধ থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে জেলায় এবারের ভয়াবহ বন্যায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত লাখ লাখ মানুষের হাহাকারে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সর্বত্র চলছে হাহাকার। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। একদিকে রমজান অন্যদিকে অনাহারে অর্ধাহারে দূর্বিসহ সময় পার করছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। জেলাজুড়ে সরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা খুবই অপ্রতুল বলছেন দূর্গত মানুষেরা। এদিকে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চকরিয়া,রামু ও সদর উপজেলার প্রায় ৪৫টি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা। মহাসড়ক ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামীন সড়ক ও সেতু বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যায় এপর্যন্ত নিহতের সংখ্যা হচ্ছে মোট ১৯ জন। এর মধ্যে রামুতে ৭ জন,চকয়িায় ৪জন, কক্সবাজার শহরে ৪জন ও টেকনাফে ৪জন।
চকরিয়া-পেকুয়া
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় চকরিয়া ও পেকুয়ায় এখনো লাখো বসতবাড়ি বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে করে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ গত ৬ দিন ধরে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। আভ্যন্তরিণ সড়কগুলো লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপজেলা সদর স্টেশনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করা সম্বভ হচ্ছে না। বানবাসী মানুষগুলো অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে বলে জানাগেছে।
বন্যাকবলিত কিছুকিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও দুই উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের বান্দিারা এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। তারা বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ উচুজায়াগায় আশ্রয়ে রয়েছে।এসব লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে পানিয় জল ও খাদ্যাভাব। অঘোষিতভাবে বন্ধ রয়েছে বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। রোববার পরিদর্শনে দেখাগেছে,মাতামুহুরী নদীতে উজানের পানি কমলেও চকরিয়া পৌরএলাকার অনেকস্থানে বন্যা ও বৃষ্টির পানি এখনো জমে রয়েছে। পানি নিস্কাশনের যথাযথ কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। পৌরএলাকার ৮ নং ওয়ার্ড কোচপাড়া, মাস্টারপাড়া, দক্ষিণবাটাখালী, কাহারিয়া ঘোনা, ভরামুহুরী ও উপজেলা সদরের আশপাশে এখনো অধিকাংশ বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বরইতলী, হারবাং, বিএমচর, পূর্ববড়ভেওলা, কোনাখালী, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ও ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে প্রায় সব বসতবাড়ি এখনো পানির নিচে রয়েছে। বন্যারপানির ¯্রােতে ওইসব এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সব বসতবাড়ি পুরোপুরি এখনো পানির নিচে অবস্থান করছে। পেকুয়া উপজেলা সদর ও সরকারি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভবন কোমর পরিমান পানির নিচে রয়েছে। এছাড়া শীলখালি ইউনিয়ন, বারবাকিয়ার একাংশ, মগনামা ও রাজাখালী ইউনিয়নের বেশিরভাগ বাড়িঘর পানির নিচে অবস্থান করছে। এসব বাড়িগুলো মানবশূন্য অবস্থায় দেখা গেছে। লোকজন উচু ভবন, উঁচুসড়ক ও ভবন উচুঁ বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যারপানি সরে না যাওয়ায় টানা ৬দিনে এসব এলাকার মানুষ ঘরে ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র মানুষ গুলো তাদের আয়-রুজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ দিকে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে ত্রান সামগ্রি বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। রোববার চকরিয়া পৌরশহরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাবার ও পকুয়া উপজেলা সদরে পুলিশ এসোসিয়েশনের পক্ষে কক্সবাজার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
রামু
বন্যা কবলিত রামু উপজেলার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। রামুতে সবোর্চ্চ ৭জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দূর্গত এলাকাগুলোতে খাবারের অভাবে লোকজন অনাহারে মানবেতর সময় পার করছে। বন্যা কবলিত মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশী। পানি এখনো কমেনি। যার কারনে কেউ রান্না করেও খেতে পারছে না। আবার দরিদ্র লোকজনের কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় অর্থাভাবে খাবার কিনতে পারছে না। প্রশাসন ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রদত্ত্ব ত্রাণ সামগ্রী খবুই অপ্রতুল। জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণের পরিমান না বাড়ালে লোকজনের ভোগান্তি বেড়ে যাবে এবং না খেয়ে মারা যাবার উপক্রম হবে।এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, একাধিক স্পটে নদী ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় রামু উপজেলার প্রায় সবকটি সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রামু-মরিচ্যা আরাকান সড়ক, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, অফিসেরচর-লম্বরীপাড়া সড়ক, ঈদগড়-ঈদগাও সড়ক, তেমুহনী-জাদিমুরা সড়ক, রাজারকুল-চেইন্দা সড়ক অন্যতম। এছাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন পাকা ও কাঁচা সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গনের খবর পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও মুঠোফোন সংযোগ বিপর্যয়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির সকল তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না। কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ কায়েস জানান, এ ইউনিয়নের গাছুয়াপাড়া, ডিককুল পাড়া, ফুলনীর চর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক বসত বাড়িও এখনও পানির নিচে রয়েছে।
অপরদিকে কক্সবাজার সদর উপজোর পিএম খালী,খুরুস্কুলের অধিকাংশ বাড়িঘর এখনও পানির নীচে রয়েছে। দূর্গত মানুষের হাহাকার চরমে পৌঁছেছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print