শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

COXS-Bazar-Flood-pic-BM01কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রোববার সকাল থেকে টানা বর্ষণও থেমে গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। বানবাসীরা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে। এতে বন্যা কবলিত এলাকায় চলছে হাহাকার। খাদ্য সঙ্কটে খালি মুখেই সেহেরি ও ইফতর সারতে হচ্ছে তাদের।

শনিবার পাহাড় ধস, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও জোয়ারে ভেসে গিয়ে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পাওয়া গেছে নিখোঁজ দুই জনের মৃতদেহ। সব মিলিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে, পাহাড় ধসে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও দেয়াল চাপায় গত তিন দিনে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছে রামুতে আটজন, টেকনাফে চারজন, কক্সবাজার শহরে একজন, চকরিয়ায় সাতজন ও পেকুয়ায় একজন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে রামুর গর্জনিয়ায় নিখোঁজ হন কিয়াজরবিল এলাকার বশির আহামদের মেয়ে কামরুন্নাহার (২০) এবং এরশাদ উল্লাহর মেয়ে হুমাইরা বেগম (০৮)। শনিবার সকালে ওই এলাকা থেকেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার পানিতে ডুবে উপজেলার ফতেঁখারকুল ইউনিয়নের আমতলিয়া পাড়ার হালিমা বেগম, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মিতারছড়ার জাকির হোসেনের ছেলে রিদুয়ান, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ বিটের জিনু মিয়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে আমির হোসেন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়ার সুলতানের মেয়ে খতিজা বেগম মারা যান।

শুক্রবার সকালে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে দেয়ালচাপায় কোনারপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) ও তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জিসান (৪) মারা যায়। এতে আরও কয়েক জন আহত হন।

অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের ঘোনায়পাড়ায় পাহাড় ধসে আবছার (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে শিশুটির মা’সহ ঘোনারপাড়ার জয়নাব বেগম, সাকের, আব্দুল মান্নান, উম্মে জামিলা, লাইটহাউজের শাকেরা খাতুন, ইসমত আরা বেগম ও সাহিত্যিকা পল্লীর ইয়াছির গুরুতর আহত হন। একই দিন চকরিয়ায় লক্ষ্যারচরে আনোয়ার হোসেন নামে এক বৃদ্ধ খাট থেকে পানিতে পড়ে মারা গেছেন।

জোয়ারের পানিতে ভেসে শুক্রবার থেকে নিখোঁজ কাকরা ইউনিয়নের প্রপার কাকরা এলাকার ফরহাদ রেজার ছেলে কাউছাইন রহিম (১২) এবং কৈয়ার বিলে পানিতে ভাসমান অবস্থায় ৩-৪ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ডুলহাজরায় একজন, পানিতে ডুবে খুটাখালীতে এক জন মারা গেছেন। এছাড়া পেকুয়া নতুনপাড়া এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় মায়ের কোল থেকে পড়ে আড়াই বছর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর ইউনিয়নের পুরাতন পাড়ায় পাহাড় ধসে মা পুরাতন পাড়ার আবুল মঞ্জুরের স্ত্রী মছুদা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে শাহিনা আক্তার (১৪) নিহত হন। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কক্সবাজারে ৪৮ ঘণ্টায় ৬৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ৪৭ বছরে এমন বৃষ্টিপাত আর হয়নি।

জেলা প্রশাসন বলছে, বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ লাখ মানুষ। এতে গবাদি পশুসহ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চিংড়ি ঘের, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য ১৪৫ টন চাল, ১১ লাখ টাকা ও নিহতদের প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দুর্গতের সেবায় আট উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এছাড়া শনিবার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি দুর্গত এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, দুর্গতদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। পাশপাশি ত্রাণ সরবরাহ করা ব্যবস্থা করেছে। তবে ত্রাণ সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে দুর্গতরা দাবি করেছেন।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বাংলামেইলকে জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্গতের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে শুকনো খাবার ও পানি। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print