রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বন্যা অপরিবর্তিত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

বন্যা অপরিবর্তিত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

বর্ষণের মাত্রা একটু কমলেও বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তবে ডুবে যাওয়া উঁচু জায়গা থেকে পানির মাত্রা একটু কমেছে। এদিকে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। শনিবার পাহাড় ধসে আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পাওয়া গেছে নিখোঁজ দুজনের মৃতদেহ। সব মিলিয়ে জেলায় গত ৩ দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় পানিতে ভেসে, পাহাড় ও দেওয়াল চাপায় এদের মৃত্যু হয়।

বানবাসীরা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও পড়েছে খাদ্য সঙ্কটে। এতে বন্যা কবলিত এলাকায় চলছে হাহাকার। খাদ্যের সঙ্কটে খালিমুখে সেহেরি ও ইফতার সারছেন অনেকেই।

অন্যদিকে বন্যা দুর্গতদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। পাশপাশি ত্রাণ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। তবে ত্রাণ সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন দুর্গতরা। দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সাথে সব সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৮ উপজেলাতেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুর্গতের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে শুকনো খাবার ও পানি। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে। মৃতদের প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রামুতে ৭জন, টেকনাফে ৪ জন ও কক্সবাজার শহরে ১জন, চকরিয়ায় ১ জন ও পেকুয়ায় ১ জন। কক্সবাজার ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে রামুর গর্জনিয়ায় নিহত হন রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের কিয়াজরবিল এলাকার বশির আহামদের মেয়ে কামরুন্নাহার (২০) এবং এরশাদ উল্লাহর মেয়ে হুমাইরা বেগম (০৮)। শনিবার সকালে ওই এলাকা থেকেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার পানিতে ডুবে উপজেলার ফতেঁখারকুল ইউনিয়নের আমতলিয়া পাড়ার হালিমা বেগম, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মিতারছড়ার জাকির হোসেনের ছেলে রিদুয়ান, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ বিটের জিনু মিয়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে আমির হোসেন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়ার সুলতানের মেয়ে খতিজা বেগম মারা যান। এছাড়া টানা বর্ষণে রামুর ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকায় সড়ক প্লাবিত হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে দেয়াল চাপায় কোনারপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) ও তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জিসান (৪) মারা গেছে। সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, শুক্রবার ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের ওপর নারিকেল গাছ চাপা পড়ে মা ও শিশু মারা যায়। এতে আরও কয়েক জন আহত হন।

শনিবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর ইউনিয়নের পুরাতনপাড়ায় পাহাড় ধসে মা ও কিশোরী মেয়ে নিহত হয়েছে। এরা হলেন- পুরাতন পাড়ার আবুল মঞ্জুরের স্ত্রী মছুদা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে শাহিনা আক্তার (১৪)। শামলাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

COX'S-bazar-flood-pic-BM02অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের ঘোনায়পাড়ায় পাহাড় ধসে আবছার (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে শিশুটির মা’সহ ঘোনারপাড়ার জয়নাব বেগম, সাকের, আব্দুল মান্নান, উম্মে জামিলা, লাইটহাউজের শাকেরা খাতুন, ইসমত আরা বেগম ও সাহিত্যিকা পল্লীর ইয়াছির গুরুতর আহত হন।

শুক্রবার চকরিয়ায় লক্ষ্যারচরে আনোয়ার হোসেন নামে এক বৃদ্ধ খাট থেকে পানিতে পড়ে মারা গেছেন। এছাড়া চকরিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। এতে দেড় শতাধিক চিংড়ি ঘের, পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চকরিয়া-বদরখালী সড়ক।

শুক্রবার পেকুয়া নতুনপাড়া এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় মায়ের কোল থেকে পড়ে আড়াই বছর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। এতে দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ও অর্ধশত চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কক্সবাজারে ৪৮ ঘণ্টায় ৬৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৪৭ বছরে এমন বৃষ্টিপাত আর হয়নি। জেলা প্রশাসন বলছে, জেলায় বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ লাখ মানুষ। এতে গবাদি পশুসহ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চিংড়ি ঘের, ফসলি ক্ষেত ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের জন্য ১৪৫ মেট্রিক টন চাউল, নগদ ১১ লাখ টাকা ও নিহতদের প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বন্যাদুর্গতের সেবায় ৮ উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। শনিবার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি দুর্গত এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print