শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » ঐতিহ্যের দেয়াল ভেঙে ভিআইপি গাড়ি পার্কিং!

ঐতিহ্যের দেয়াল ভেঙে ভিআইপি গাড়ি পার্কিং!

Lalbag-kella01মুঘল স্থাপত্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন লালবাগ কেল্লা। এর স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক দৃষ্ট যেমন মানুষকে আকৃষ্ট করছে ঠিক বিনোদন প্রিয় মানুষের কাছেও এটি অনেক জনপ্রিয়। লালবাগ কেল্লার মতো দেশের ১০০ বছরের পুরনো স্থাপনাগুলো রক্ষায় যেমন দেশে আইন রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে উচ্চ আদালতের নির্দেশ। কিন্তু এসব কিছুই তোয়াক্কা করছে না খোদ স্থাপনাটির রক্ষক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে পরিবেশবাদি সংগঠনগুলোসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কেল্লার মসজিদের পার্শ্ববর্তী সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১০ ফুটের বেশি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভেতরে ভিআইপিদের কার পার্কিংয়ের জন্য পাঁচ-ছয় জন শ্রমিক সারিসারি ইট বসানোর কাজ করছেন। শুধু দেয়াল ভাঙা নয়, এজন্য ধ্বংস করা হয়েছে কেল্লার বিশাল বাগান। যেখানে সুবিন্যস্ত ফুলের বাগান রয়েছে। এজন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের পার্কিং নির্মাণ কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, মুঘল আমল থেকেই মসজিদের পার্শ্ববর্তী এ জায়গায় জুমার নামাজ, তারাবি, ঈদের জামাতসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু এখন মূল নকশা উপেক্ষা করে এখানে নির্মাণ করা হচ্ছে বেমানান কার পার্কিং। ১৯৬৮ পুরাকীর্তি আইনেরও এটি পরিপন্থি।

তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দাবি, যেখানে গাড়ি রাখার জায়গা তৈরি করা হচ্ছে, সেখানকার বেশ কিছু অংশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৪ মে ওই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ওই বছরই সেখানে গাড়ি রাখার জায়গা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। গত ৭ মে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মইনুল হক হাসান এ কাজের ঠিকাদারী পান। তিনি পার্কিং নির্মাণ করতে বালু, ইট-পাথরসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র আনা-নেয়ার জন্য দেয়াল ভাঙেন।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভাঙা দেয়ালটি পুরাকীর্তির অংশ নয়। এটি স্বাধীনতার পরে স্থাপন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই দেয়াল ভেঙেছি। এজন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দেয়ালটি ভাঙা হয়েছে।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন লালবাগ কেল্লার কাস্টডিয়ান সুলতানা জাকিয়া বেদৌরা বলেন, ‘এজন্য আমরা একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করি। কমিটির সুপারিশ সুপারিশ অনুযায়ী পার্কিং নির্মাণের কাজ হচ্ছে।’

এদিকে লালবাগ কেল্লার সীমানা প্রাচীর ভাঙার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান পরিবেশবাদী বেশ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), প্রত্যাশা, গ্রিন মাইন্ড সোসাইটি, ওয়ার্ক ফর অ্যা বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এসময় তারা ৩০০ বছরের পুরনো প্রাচীর ভেঙে কেল্লার ভেতরে পার্কিং অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘স্থাপনাটি স্বাধীনতার আগে নির্মাণ করা হোক আর পরে নির্মাণ করা হোক সব মিলেই লালবাগ কেল্লা। যেহেতু এর পুরো অংশকে হ্যারিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেহেতু এর রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এসব ভবনের ব্যাপারে বেখেয়াল হলে চলবে না, সবাইকে সচেতন হতে হবে। কেল্লার ভেতরে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করলে গাড়ির শব্দ ও ধোঁয়ায় এর পুরো পরিবেশ নষ্ট হবে। তাই অধিদপ্তরের উচিৎ হবে প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্য রক্ষায় অন্য কোথাও গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print