রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » চলে গেলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলারের জন্মদাতা

চলে গেলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলারের জন্মদাতা

Diego-Maradona-009১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্বকে অন্যতম সেরা এক উপহার দিয়েছিলেন ডন ডিয়েগো আর আর দোনিয়া তোতা। অভাবী পরিবারে ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছিল ছোট্ট একটা শিশু, বড় হয়ে যিনি ফুটবলকে নিয়ে গিয়েছিলেন শিল্পের পর্যায়ে। সেই ফুটবল-জাদুকর, ফুটবল-শিল্পীর জন্মদাতা ডন ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর নেই। গতকাল আর্জেন্টিনার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন ৮৭ বছর বয়সে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনার অস্থায়ী আবাস এখন দুবাইয়ে। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে এ মাসের শুরুতেই তিনি দেশে ফিরে যান। ২০১১ সালে মা দোনিয়ার মৃত্যুর সময় শেষ দেখা দেখতে পাননি। এ নিয়ে আবেগী ম্যারাডোনা সব সময়ই অনুতাপ করে এসেছেন। বাবার বেলায় যেন এমনটা না হয়, এ ব্যাপারে সব সময়ই সচেতন ছিলেন। ডন ডিয়েগোর মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন তাঁর সব সন্তানই।
এক শোকবার্তায় ম্যারাডোনা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানোর জন্য। এমনকি যে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে চিরকালই তাঁর বৈরী সম্পর্ক ছিল, তাদেরও প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন হাসপাতালে ম্যারাডোনা পরিবারকে যথেষ্ট সম্মান ও সহযোগিতা করার জন্য।
ম্যারাডোনার জীবনে তাঁর বাবার ভূমিকা বিশাল। ছেলের খ্যাতির তুঙ্গে যেমন পাশে ছিলেন, একইভাবে পাশে ছিলেন মাদক ও ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার বিধ্বস্ত সময়টায়। বাবাই শুধু নয়, ম্যারাডোনা হারালেন তাঁর এক পরম বন্ধুকেও।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন ডন ডিয়েগো। রান্নাটা​ বেশ ভালোই জানতেন। প্রায়ই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের একসঙ্গে ডেকে নিজ হাতে খাইয়েছেন। এমনকি ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপেও তাঁর করা ‘বারবিকিউ’-এর গল্প এখনো করেন বিশ্বকাপজয়ী দলের অনেক সদস্য।
ম্যারাডোনার সর্বকালের সেরা হয়ে ওঠার পেছনেও তাঁর একটি সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা বা বাঁক পরিবর্তন হিসেবে কাজ করেছে। ছেলে-সংসার নিয়ে ​তিনি থাকতেন আর্জেন্টিনার উত্তরাঞ্চল করিয়েনতেসে। পঞ্চাশের দশকে জীবিকার তাগিদেই রাজধানীতে আসেন। সেখানে একটি কারখানায় কাজ নেন। ডন ডিয়েগো রাজধানীতে না এলে হয়তো তাঁর সন্তানের ফুটবল প্রতিভার খবর বড় ক্লাবগুলোর কানে পৌঁছাতই না।
অবশ্য শুরুর দিকে তিনি নিজেও চাননি ছেলে ফুটবলার হোক। বস্তির অলি​গলি আর ধুলোমাখা মাঠে ছোট্ট ম্যারাডোনা সারা দিন ফুটবল​ নিয়ে পড়ে থাকলেও ডন ডিয়েগো চেয়েছিলেন, ছেলে পেশা হিসেবে অন্য কিছু বেছে নিক। কারণ তখনো ফুটবলে টাকা ছিল সামান্যই। পরে অবশ্য মত বদলান। ভাগ্যিস বদলেছিলেন। তা না হলে ম্যারাডোনা-রূপকথার তো জন্মই হতো না!
ফুটবল বিশ্ব তাই শ্রদ্ধাবনত হয়ে স্মরণ করছে ডন ডিয়েগোকে। ‘ম্যারাডোনা’ নামের এক রত্নকে উপহার দিয়েছিলেন যে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, ফুটবলে হীরক-বর্ণে লেখা এই নামটি কিন্তু কোনো পুরুষের পদবি নয়। ডন ডিয়েগো ‘ম্যারাডোনা’ পদবিটি নিয়েছিলেন তাঁর মায়ের কাছ থেকে। কারণ তাঁর আইনগত পিতৃপরিচয় ছিল না। ম্যারাডোনার মাও দোনিয়াও ছিলেন পিতৃপরিচয়হীন এক নারী।
বাবার পরিচয় না পাওয়ার হাহাকার নিয়ে বেড়ে ওঠা তাঁদেরই সন্তান এই দুজনকে সগর্বে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সারা বিশ্বের কাছে। এও কি কম রূপকথা!


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print