সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » বাংলাওয়াশের লক্ষ্য ৩১৮

বাংলাওয়াশের লক্ষ্য ৩১৮

Mustafiz1435144669তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে বাংলাদেশের কাছে হেরে সিরিজ হার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় সফরকারী ভারতের। তবে সম্মান বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩১৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা দিতে সক্ষম হয় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। বুধবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। ফলে ধোনিদের বাংলাওয়াশ করতে হলে ৩১৮ রান করতে হবে টাইগারদের।

ভারতকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা এনে দেয়ার ক্ষেত্রে ওপেনার শেখর ধাওয়ান ও অধিনায়ক ধোনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ধাওয়ান ৭৩ বলে ৭৫ এবং ধোনি ৭৭ বলে করেন ৬৯ রান। এছাড়া রাইয়ুডু ৪৪ ও রায়না ২১ বলে ৩৮ রান করেন।

বাংলাদেশের সফল বোলার মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লাভ করলেও ১০ ওভারে ৭৬ রান দেন তিনি। মুস্তাফিজ ৫৭ রানের বিনিময়ে নেন ২ উইকেট।

বুধবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা যেন উইকেট এবং বোলারদের বল বোঝার কাজেই ব্যয় করতে চাইছিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান। ব্যাট করছিলেন বেশ সাবধানী। বাংলাদেশের দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এবং মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেখে শুনেই খেলছিলেন তারা দু’জন। একই সঙ্গে মনযোগি হওয়ার চেষ্টা করছিলেন দ্রুত রান তোলার দিকেও। কিন্তু সপ্তম ওভারের শেষ বলে এসেই ঘটলো ছদ্মপতন।

প্রথম দুই ম্যাচের মত তৃতীয় ম্যাচে এসেও মুস্তাফিজুরের অফ কাটারে ধরা পড়লেন রোহিত শর্মা। প্রথম দুই ম্যাচে ভালো করতে না পারায় তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে বেশ মারমুখি ভুমিকায় খেলার চেষ্টা করেন রোহিত। ২৯ বলে খেলে ফেলেন ২৯ রানের ইনিংস। দুটি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কাও মেরে ফেলেন তিনি।

কিন্তু সপ্তম ওভারের শেষ বলে এসেই সেই অফ কার্টার। বুঝতেই পারলেন না রোহিত। জায়গায় দাঁড়িয়ে ভাবলেন সজোরে হিট করবেন। কিন্তু কাটার লাগলো তার ব্যাটের কানায়। জমা পড়লো উইকেটের পেছনে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ৩৯ রানে পড়লো প্রথম উইকেট। সিরিজের তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই মুস্তাফিজের অফকাটারে কাটা পড়লেন ভারতীয় ওপেনার এই ওপেনার।

রোহিত আউট হয়ে গেলেও উইকেটে যেন সেট হয়ে বসে যাচ্ছিলেন বিরাট কোহলি আর শিখর ধাওয়ান। মাশরাফি একের পর এক বোলার ব্যবহার করেও সাফল্য পাচ্ছিলেন না। সর্বশেষ ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ইনিংসের ২০তম ওভারে সাকিবকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি। ওভারের ৫ম বলেই সাকিবের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হন কোহলি। সাকিবকে তিনি চেয়েছিলেন স্লগ সুইপ করতে। কিন্তু বলের ফ্লাইটই বুঝতে পারেননি। হয়ে গেলেন সরাসরি বোল্ড।

ধাওয়ানের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৩৫ বলে আউট হন ২৫ রান করে। বাউন্ডারির মার ছিল মাত্র একটি। রোহিত শর্মার মত পুরো সিরিজেই যারপরনাই ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন বিরাট কোহলি।

এরই মধ্যে অবশ্য ক্যারিয়ারে ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেছেন শিখর ধাওয়ান। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ঝেঁকে বসতে শুরু করেন তিনি। ৭৩ বলে করে ফেলেন ৭৫ রান। বাউন্ডারি মারেন ১০টি। শেষ পর্যন্ত নাসির হোসেনের এক অসাধারণ ক্যাচে ফিরলেন শিখর ধাওয়ান।

বোলার মাশরাফি বিন মর্তুজা। ধাওয়ানকে তিনি দিয়েছিলেন স্লোয়ার অফকাটার। বলটা ছিল খেলার মতই। উইকেটের মাঝে পিচ করে। ধাওয়ান যে দিকে ইচ্ছা খেলতে পারতেন। তিনি বেছে নিলেন মিড উইকেট অঞ্চলকে। চেয়েছিলেন ফিল্ডারের ওপর দিতে বল পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু নাসির তো আর শুধু শুধু ফিল্ডার নন। অসাধারণ ফিল্ডার। ক্রিকইনফো তাদের কমেন্ট্রিতে লিখেছে, ‘ ‘হুসাইন ইজ জাস্ট নট অ্যা ম্যান। হি ইজ অ্যা প্লেন, হি ইজ অ্যা বার্ড। হি ইজ এ ফক্স হু হ্যাজ বিকাম এ টাইগার। হি ইজ সুপার ম্যান। হি টেকস দ্য ক্যাচ এট শর্ট মিড উইকেট।’ দলীয় ১৫৮ রানে আউট হয়ে গেলেন ধাওয়ান।

ধাওয়ান আউট হয়ে গেলেও অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সম্ভবত ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলারই ব্রত গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের আর কোনো ভয়ই পাচ্ছেন না তিনি। শুধু মুস্তাফিজকে একটু রয়ে সয়ে খেলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের বাকি বোলারদের পিটিয়ে খেলছেন এবং একই সঙ্গে ভারতের রানকে ৩০০ পেরিয়ে যাওয়ার পথে নিয়ে যান।

তবে আম্বাতি রাইয়ুডুর পর ধোনিকেও সাজঘরে ফিরিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। জোড়া আঘাতে সফরকারীদের রানের চাকা আটকে ধরার চেষ্টা করেন টাইগাররা। ৪৪তম ওভারে প্রথমে রাইয়ুডুকে ক্যাচ আউট করে সাজঘরের পথ দেখান মাশরাফি, এরপর ৪৬তম ওভারে ভারতের অধিনায়ক ধোনিকে আউট করে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে দর্শকদের আনন্দে ভাসান নড়াইল এক্সপ্রেস।

কিন্তু শেষদিকে রায়নার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩১৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে সফরকারী ভারত।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print