শনিবার , ২১ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » তিস্তায় ইলিশ!

তিস্তায় ইলিশ!

fish ilisমঙ্গলবার তিস্তা নদীতে ইলিশ মাছের একটি প্রজাতি ভাসতে দেখে ভোজন রসিক বাঙালি মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেটাকে ইলিশ বলে অনেকে ভুল করলেও মৎস্য কর্মকর্তাদের দাবি ওই মাছ ইলিশ নয় ‘টেনিওয়ালোসা’ গোত্রের ‘টোলি’ মাছ। একই গোত্রভুক্ত ইলিশ। ভারতের জলপাইগুড়ি দুই নম্বর স্পারের কাছে দু’টি বড় মাপের টোলি মাছ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মৎস্য অধিদপ্তরে খবর দেয়। মাছ দু’টি পরীক্ষার জন্য পানি থেকে তুলে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

জলপাইগুড়ির মৎস্য কর্মকর্তা পার্থসারথি দাস বলেন, ‘ইলিশ গোষ্ঠীভুক্ত মাছ টোলি। অনেকে এটাকে ইলিশ বলে ভুল করেন। দেখতে ও স্বাদে এই মাছ ইলিশের কাছাকাছি। ডিম ছাড়ার জন্য মিটা পানিতে আসে। হলদিবাড়ি সংলগ্ন বেলতলির কাছে ওই মাছ পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গের নদীতে টোলি প্রজাতির ইলিশ রয়েছে। কোচবিহার জেলার বলরামপুরে তোর্সা নদীতেও ওই ইলিশ পাওয়া যায়।’

তবে মৎস্য অধিদপ্তরের গবেষকরা বলছেন, ‘সমুদ্রের মাছ হলেও টোলি কী করে তিস্তায় এলো তা এখনো জানা যায়নি।’

ইলিশ লবনাক্ত পানির মাছ বা সামুদ্রিক মাছ, বেশিরভাগ সময় সে সাগরে থাকে কিন্তু বংশবিস্তারের জন্য প্রায় ১২০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশে নদীতে পারি জমায়। বাংলাদেশে নদীর সাধারণ দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার। ইলিশ প্রধানত বাংলাদেশের পদ্মা (গঙ্গার কিছু অংশ), মেঘনা (ব্রহ্মপুত্রের কিছু অংশ) নদীতে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। এর মাঝে পদ্মার ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে ভালো বলে ধরা হয়।

ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয় কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মতো সুস্বাদু হয় না। দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশেও এই মাছ পাওয়া যায়। সেখানে মাছটি পাল্লা নামে পরিচিত। এই মাছ খুব অল্প পরিমানে থাট্টা জেলায়ও পাওয়া যায়। বর্তমানে সিন্ধু নদীর পানি নীচে নেমে যাওয়ার কারণে পাল্লা বা ইলিশ আর দেখা যায় না।

এদিকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান মৎস্য বিশেষজ্ঞ সুদীপ বরাট বলেন, ‘তিস্তার পানিতে টেনিওয়ালোসা গোত্রের টোলি প্রজাতির ইলিশের সন্ধান মেলা মোটেও আশ্চর্যের নয়। আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে কোচবিহারের কালজানি নদীতে ওই মাছের খোঁজ পেয়েছি। এখন পানি বাড়ছে। আত্রেয়ীর মাধ্যমে তিস্তায় তাই এই মাছ চলে আসতে পারে।’

স্থানীয় প্রবীণ মৎস্যজীবী দীনবন্ধু বলেন, ‘১৯৬৮ সালের বন্যার আগে তিস্তার পানিতে মাঝে মধ্যে ইলিশ পাওয়া যেতো। বন্যার পর আর দেখা মেলেনি। তবে ইদানিং চাপিলা, কাজলি, বাছার মাছ মিলছে। ওই মাছ সাধারণত বাংলাদেশের নদীতে পাওয়া যায়।’

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, করতোয়া নদীর মাধ্যমে গঙ্গার সঙ্গে যুক্ত ছিল তিস্তা। ১৭৮৭ সালে বিধ্বংসী বন্যায় তিস্তা গতিপথ পাল্টে অধুনা বাংলাদেশের লালমণিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম হয়ে চিলামারি নদী বন্দরের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলেছে। গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সিকিমের ৭ হাজার দুশো মিটার উঁচু হ্রদে উৎপন্ন ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর বাস্তুতন্ত্রের বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। আগে গঙ্গা হয়ে ইলিশ তিস্তার মিঠা পানিতে ঢুকে পড়তো। গঙ্গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তিস্তায় ওই মাছ বিরল হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print