বৃহস্পতিবার , ১৯ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » হজে দুর্নীতি : আমলাদের অব্যাহতি

হজে দুর্নীতি : আমলাদের অব্যাহতি

hajj-oumra-11পবিত্র হজ নিয়েও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চলছে নয়ছয়। মন্ত্রণালয়ের খোদ অতিরিক্ত, যুগ্ম ও উপসচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকেই ছিল অভিযোগের তির।

 ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ আত্মীয়স্বজনের নামে হজ এজেন্সির লাইসেন্স দিয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিচ্ছেন- এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

  প্রায় এক বছর অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ২১ জুন অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দুদক সচিব মাকসুদুল হাসান খান স্বাক্ষরিতে এক আদেশ সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

 ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

 অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) হাসান জাহাঙ্গীর আলম, উপসচিব (হজ) জাহাঙ্গীর আলম, আশকোনা হজ অফিসের অফিস সহকারী ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে কর্মরত আহমেদ মোস্তফা মোল্লা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) বজলুল হক বিশ্বাসসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

 উল্লিখিত কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে যা জানা যায় তা হলো-

 অতিরিক্ত সচিব বজলুল হক বিশ্বাস : ২০১৪ সালের ২ আগস্ট অবসরপূর্ব ছুটিতে যাওয়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বজলুল হক বিশ্বাস গত সাড়ে আট বছর ওই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়ের জামাইয়ের নামে ‘সুপার নির্ভান এন্টারপ্রাইজ’ এবং মেয়ের নামে ‘সাবরিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি হজ এজেন্সির লাইসেন্স নিয়েছেন। যার মাধ্যমে গড়েছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জানা যায়, হজসংক্রান্ত কোনো কাজই ওই সিন্ডিকেটের বাইরে হয় না। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের কারণেই অবসরে যাওয়ার কয়েক দিন আগেও তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল।

 যুগ্ম সচিব (হজ) হাসান জাহাঙ্গীর আলম : যুগ্ম সচিব (হজ) হাসান জাহাঙ্গীর আলমও প্রায় ছয় বছর ধরে একই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। এর আগে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব ছিলেন দীর্ঘদিন। ফলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ৮ থেকে ১০ বছর। বজলুল হকের অবসরের পর সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তার ছেলের নামে ‘সুবহানাল্লাহ ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস’ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যৌথভাবে ‘মুনতাকা ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস’ নামে দুটি এজেন্সির লাইসেন্স নিয়েছেন। তবে বরাবরই ‘নিয়মকানুন মেনেই তার ছেলে লাইসেন্স পেয়েছেন’ বলে দাবি করে আসছেন তিনি।

 উপসচিব (হজ) জাহাঙ্গীর আলম : উপসচিব (হজ) জাহাঙ্গীর আলমও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। দীর্ঘদিন একই মন্ত্রণালয়ে থাকার সুবাদে তিনিও সিন্ডিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। জাহাঙ্গীর আলমের ভাইয়ের নামে রয়েছে একটি হজ এজেন্সির লাইসেন্স। ‘ইবনে বতুতা ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস’ নামে এ লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা করছেন জাহাঙ্গীর আলমের ভাই।

 অফিস সহকারী আহমেদ মোস্তফা মোল্লা (সাপু) : অফিস সহকারী আহমেদ মোস্তফা মোল্লা (সাপু) ও তার ভাই হজ অফিসের মেসেঞ্জার রফিকুল ইসলাম মোল্লার রয়েছে ‘আরএফএল ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস’ নামে একটি হজ এজেন্সি। রফিকুল ইসলাম মোল্লা গতবার হজ-চিকিৎসক দলের সদস্য হিসেবে সৌদি আরব ঘুরে এলেও এবারও ওই দলে তার নাম রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, তাদের বিধানে পরপর দুবার এভাবে যাওয়ার নিয়ম নেই।

 অন্যদিকে হজ গাইড নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে হজ গাইড নির্বাচন নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে হজ গাইড বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) হাসান জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি করা হলেও কমিটির অন্য তিন সদস্য বায়তুল মোকাররম মসজিদের দ্বিতীয় খতিব মাওলানা মুহিবুল্লাহ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবদুস শুকুর ও আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক মিজানুর রহমানকে অন্ধকারে রেখে এ গাইড নির্বাচন করা হয়।

 নিয়ম অনুযায়ী যারা কমপক্ষে ৪৫ জন হজযাত্রী সংগ্রহ করতে পারবেন, তাদেরই হজ গাইড হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু একজন হাজিও সংগ্রহ করতে পারেননি এমন ব্যক্তিকেও হজ গাইড করা হয়েছে। এমনকি কমিটির প্রধান হাসান জাহাঙ্গীর আলম তার নিজ এলাকা চাঁদপুরের এমন ছয়জনকে গাইড নির্বাচিত করেছেন, যাদের মধ্যে চারজনই কোনো হাজি সংগ্রহ করতে পারেননি।

 ২০১৪ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৪৫৭ ব্যক্তি হজ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই সংখ্যক হাজির জন্য ৩৩ জন হজ গাইড নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন করা হয় ৪৮ জনকে। এখানে বাড়তি ব্যয় হয়েছে ৬০ লাখ টাকা।

 দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print