বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » নিজেদের পছন্দে দেশ, বেচতে পারবেন জমি

নিজেদের পছন্দে দেশ, বেচতে পারবেন জমি

LALMONIRHAT-SITMOHOLছিটমহলের অধিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী জুলাই থেকে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী, ছিটমহলবাসীরা ইচ্ছে মতো নাগরিকত্ব নিতে পারবেন এবং বর্তমান স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে পছন্দের দেশে যেতে পারবেন।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল বিনিময়ের পরপরই ‘আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে ছিটমহল বিনিময় শুরু’ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালের স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল কার্যকরের পদক্ষেপ হিসেবে ছিটমহলবাসীদের অবগতির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত সব ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত সব বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

২০১১ সালে পরিচালিত শুমারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি এবং এরপরে জন্মগ্রহণকারী সন্তানদের বাংলাদেশের/ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তারা বাংলাদেশের/ভারতের নাগরিক হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

তবে কেউ চাইলে মূল ভূখণ্ডে যেতে পারবেন। এজন্য ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিটি জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহে ছিটমহলবাসীদের মতামত সংগ্রহ করবেন। এ সময় যারা যে দেশের নাগরিক হতে চান ও ওই দেশের মূল ভূখণ্ডে যেতে চান তাদের যৌথ কমিটির কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ভারতীয় ছিটমহলের কেউ যদি ভারতের নাগরিক হয়ে ভারতে যেতে চান আবার ভারতের অভ্যন্তরের বাংলাদেশের ছিটমহলের কেউ যদি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে বাংলাদেশে আসতে চান তাকে জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশের/ভারতের মূলভূখণ্ডে গমন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এসব নাগরিকের সীমান্ত পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে। যাতায়াতের জন্য চিলাহাটি-হলদিবাড়ী, বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা ও বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি চেকপয়েন্ট ব্যবহার করা যাবে।

নাগরিকেরা ভারতে বা বাংলাদেশে যাওয়ার সময় টাকা-পয়সাসহ অস্থাবর সম্পত্তি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। যারা মূল ভূখণ্ডে যাবেন তাদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে হবে।

তবে কেউ চাইলে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের হেফাজতে সম্পত্তির দলিলের কপি (যদি থাকে) রেখে যেতে পারবেন। পরে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তা বিক্রি করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, এতে রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষের বাস। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪ হাজার।

স্থল সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী, ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হয়ে যাবে, বাংলাদেশের ৫১টি চলে যাবে ভারতের সঙ্গে।

চুক্তিতেই ছিটমহলবাসীকে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print