শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » চাঁদপুরে মা-শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

চাঁদপুরে মা-শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

চাঁদপুরেচাঁদপুরে মা-ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার ফরিদগঞ্জ উপজেলার আদশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ফাতেমা বেগম (২০) ও তার ১০ মাস বয়সি পুত্র সন্তান ফুহাদ।

মা ও শিশু পুত্রকে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ঘাতক স্বামী রাসেলের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। এই ঘটনায় পুলিশ বাধা দিতে গেলে তারাও হামলার শিকার হয়। এতে দুই পুলিশসহ ৮/১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬নং গুপ্টি ইউনিয়নের আদশা গ্রামের হাজী বাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাসেলের সঙ্গে পার্শ¦বর্তী রামগঞ্জ উপজেলার রাঘরপুর গ্রামের আবদুল গফুরের মেয়ে ফাতেমার দুই বছর আগে বিয়ে হয়।

নিহত ফাতেমার ভাই মনির হোসেন জানান, স্বামী রাসেল ঢাকা থেকে ফিরবে বলে জানালে শনিবার রাতে ফাতেমা তার ১০ মাস বয়সি ছোট শিশু ফুয়াদকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে চলে যান। রোববার সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ ফাতেমাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার বাবার বাড়িতে খবর দেন শাশুড়ি। খবর পেয়ে মা-বাবা সেখানে গিয়ে রান্না ঘরে পোড়া যাওয়া বিভিন্ন ছাই দেখতে পায়। পরে ফাতেমার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে এক পর্যায়ে পুকুরে তাদের লাশ ভাসতে দেখেন।

এরপর ফাতেমার স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে শ্বশুরবাড়ির বসতঘর ও রান্না ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের ওপরও হামলা চালায়। এতে এসআই ইকবাল, কনস্টেবল শাহাজাহানসহ ৮/১০ জন আহত হন। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ফরিদগঞ্জ থানা ও চাঁদপুর থেকে বাড়তি পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে সেখানে যাই। রান্না ঘরে কিছু পোড়া ছাই পাওয়া গেছে। শিশুটির শরীরের কয়েকটি স্থানে দাগ দেখতে পেয়েছি। নারীকে দেখা সম্ভব হয়নি। কারণ, তাকে পুকুর থেকে কাপড় দিয়ে ঢেকে ওপরে ওঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনাটি আসলে কী, এখনই বলতে পারছি না। তবে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন দিলে বলা যাবে। বর্তমানে ফাতেমার শ্বশুরপক্ষের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে ফরিদগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলেননি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print