সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বিনিয়োগ জোটাতে রোড শো না প্রমোদ ভ্রমণ?

বিনিয়োগ জোটাতে রোড শো না প্রমোদ ভ্রমণ?

rampalবহুল আলোচিত-সমালোচিত বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রকল্প রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিনিয়োগ জোটাতে বিদেশের মাটিতে আবারো রোড শো করার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী জুলাই মাসে জাপান এবং কোরিয়াতে ১৫ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে; যদিও আগে এ ধরনের প্রদর্শনী করে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। উদ্যোগটি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতির অপেক্ষায় আছে।

এরআগে কয়েক দফায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে রোড শো করেছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ। তবে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি সে সময়। তারপরও নতুন করে রোড শো আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা একে রোড শো না বলে প্রমোদ আয়োজন বলতে চাচ্ছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) সঙ্গে যৌথভাবে এই শোর আয়োজন করতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জাপান ও কোরিয়ায় শো’র আয়োজন করা হবে। অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষে চারজন করে রোডশোতে অংশ নেবেন। রোড শোয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সামনে প্রকল্পটি তুলে ধরা হবে। এতে উল্লেখ করা হয় দুই দেশের ৩০ ভাগ মূলধন এবং ৭০ ভাগ ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

ঋণের অর্থ জোগাড় করার দায়িত্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। ঠিকাদার নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচটি কোম্পানি তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

দরপত্র ডাকার পরও ১৫ দিনের জন্য রোডশোর আয়োজন করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, প্রকল্পের শুরুতেই রোডশো করা হয়। কিন্তু এখন তো রামপাল প্রকল্প অনেকদূর এগিয়েছে। অর্থ জোগাড়ের দায়িত্বও ঠিকাদারের। তাই কোটি কোটি টাকা খরচ করে এ আয়োজন কতটা প্রকল্পের প্রয়োজনে আর কতটা প্রমোদ ভ্রমণ তা নিয়ে প্রশ্ন রাখাই যায়।

তারা আরো জানান, দরপত্র ডাকার আগে অনেক বিদেশি কোম্পানি এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল, কিন্তু দরপত্রের কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই এখন রোড শোয়ের আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারে।

উল্লেখ্য, জোট সরকারের গত আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে রোড শো করে বিদ্যুৎ বিভাগ, যাতে ব্যয় হয়েছিল দুই কোটি টাকার উপরে। সে সময় বলা হয়েছিল এ কার্যক্রমের ফলে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যেসব কোম্পানি রোড শোতে অংশ নিয়েছিল তারা কেউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসেনি। ফলে জনগণের অর্থ মূলত কর্মকর্তাদের ভোগ বিলাসে ব্যয় হয়েছে। এবারও তাই হবে বলে ধারণা অনেক কর্মকর্তার।

দরপত্রে বিডার্স ফাইনান্সের কথা বলা হলেও আবার রোড শো কেন- জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রকল্পের শুরুতেই রোড শো’র বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। প্রকল্পেই এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অর্থায়নের প্রয়োজনে রোড শো করবো। প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো উদ্যোক্তাদের জানানোই এ রোডশোর মূল লক্ষ্য।’

প্রসঙ্গত, আলোচিত-সমালোচিত রামপাল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ কেন্দ্রের জন্য সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার ও বনের বাফার জোন থেকে চার কিলোমিটার এবং মংলা বন্দর থেকে আট কিলোমিটার দূরে রামপালের গৌরম্ভার কৈকরদশ কাঠি ও সাতমারি মৌজায় এক হাজার ৮৪৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমির ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি চলবে আমদানি করা কয়লা দিয়ে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রথম থেকেই এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে। তারা বলছে, সুন্দরবনের কাছে এ ধরনের প্রকল্প বনের জীববৈচিত্র ধ্বংস করবে। এমন আশঙ্কায় দুই দেশের কাছেই তারা প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print