রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » সব ধরনের ইটের দাম বাড়ছে

সব ধরনের ইটের দাম বাড়ছে

brick.২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) বাড়ানোসহ সব ধরনের ইটের দাম বাড়ানোর হয়েছে। সেইসঙ্গে মৌসুমি ইটভাটার মূসক বিধিমালা-২০০৪ এর সংশোধন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে বেড়ে যাবে মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণে অত্যন্ত প্রয়োজনী পণ্য ইটের দাম।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের ইটের ওপর ভ্যাট (প্রতি হাজারে) ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে যন্ত্রের সাহায্য ব্যতিত তৈরি সাধারণ ইট যেমন- ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও চট্রগ্রাম জেলায় অবস্থিত ইটভাটার ক্ষেত্রে প্রতি হাজার ইটের দাম ১ হাজার ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দেশের অন্যান্য জেলার এই ইটের দাম প্রতি হাজারে ১ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বা যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি ইটের দাম ২ হাজার ১৬০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে।

১০ ছিদ্র, ১৭ ছিদ্র ও মালটি কোরড ইটের দাম ৩ হাজার ৪৫৬ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫৬ টাকা। আবার দ্বিতীয় গ্রেডের তিন, ১০ ও ১৭ ছিদ্র বিশিষ্ট ইট ২ হাজার ৪৮৪ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮৪ টাকা, ব্রিকস চিপস ৩ হাজার ৩৮২ টাকা থেকে ৩ হাজার ৯৮২ টাকা এবং মিকাড ব্যাটস ২ হাজার ৩১৭ টাকা থেকে ২ হাজার ৯১৭ টাকার সংশধনি প্রস্তাব করা হয়েছে এই বাজেটে। আগামী ৩০ জুন বাজেট পাশের পর মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ এর আলোকে এসব সংশোধনী ও আদেশগুলো পরবর্তীতে জারি করা হবে।

এনবিআর সূত্র আরও জানায়, ইটের দাম বাড়ার আরও একটি কারণ হচ্ছে এবারে মৌসুমি ইট ভাটা বিধিমালায় যে নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের বিধান ছিল তা বাতিল করা হয়েছে। সে জন্যে মৌসুমি ইটভাটার মূসক বিধিমালা-২০০৪ বিধি ৬(১) এবং ৫(২) মোতাবেক ‍‘নিরুপিত মোট মূল্যের ওপর প্রদেয় ভ্যাট এর বিপরীতে সমপরিমাণ মূল্যের নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল’- শব্দগুলো বিলুপ্ত করা হবে। এসব ছাড়াও ইটভাটার ওপর মূসক আদায় নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে মূসক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক না দাবি সনদ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স ইস্যু করা যাবে না মর্মে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আর এসব পরিববর্তন এনে ইটভাটার ওপর বিদ্যামান মূসক দেয়া নিয়ে আগের প্রজ্ঞাপন (এসআরও নং-৬-আইন/২০১৪/৪০১ মূসক) অধিকতর সংশোধন করে সংশোধিত (এসআরও নং-১২-আইন /২০১৫/৭৩২ মূসক) প্রজ্ঞাপন আকারে গত ৪ জুন জারি করা হয়েছে। তাই এই বাজেট (২০১৫-১৬) পাশ হওয়ার পরই বেড়ে যাবে দেশের সব ধরনের ইটের দাম।

এ ব্যাপারে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে ইটভাটার জন্য ভারত থেকে কয়লা আমদানিতে ৫০ শতাংশ হারে যে কর আদায় করা হচ্ছিল তা মওকুফ করেছে এনবিআর। পরিবেশ সুরক্ষায় ইটভাটায় কাঠ পোড়াতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কয়লা দিয়েই ইট প্রস্তুত করার জন্য এ সুবিধা দেয়া হয়েছে। এখনও এ সুবিধা বিদ্যামান আছে, তবে আমাদের বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের জন্য ইটের আগের মূল্য চাইতে বাড়িয়ে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।

কেননা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকেই এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে হবে। তাই আগে করের আওতা, ক্ষেত্র ও পরিমাণ বাড়ানো ছাড়া উপায় নাই বলে যোগ করেন তিনি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print