শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ফুটবল » কঠিন সংকটে মোদি ও সুষমা স্বরাজ!

কঠিন সংকটে মোদি ও সুষমা স্বরাজ!

29436-modiবিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্রিকেট আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রধান উদ্যোক্তা ললিত মোদির বিরুদ্ধে অর্থ তছরূপের অভিযোগ বেশ পুরনো। মোদিকে নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আইপিএল কেলেঙ্কারির ‘মূলহোতা’ ললিত মোদিকে পর্তুগালের ভিসা পাইয়ে দিতে গত বছর গোপনে সাহায্য করার অভিযোগ ওঠে ক্ষমতাসীন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং দলটির আরেক নেতা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের বিরুদ্ধে। ভারতের রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি। এ নিয়ে কঠিন সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এ ছাড়া মোদির ‘একনায়কোচিত’ মনোভাব দলের বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ‘ভারতে জরুরি অবস্থা আসতে পারে’- বিজেপির প্রবীণ নেতা এলকে আদভানির সাম্প্রতিক এ মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, দলটিতে বেশ বড় বিভক্তি রয়েছে।

সরকারবিরোধী ও নিজ দলের মতবিরোধীদের সামাল দেওয়া এখন মোদির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ললিত মোদি-কাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তদের সরানো হবে কি না, এ নিয়ে বিজেপির মধ্যেই শুরু হয়েছে আন্তঃকলহ। বসুন্ধরাকে সরানোর সবুজ সংকেত দিয়েছে বিজেপির মিত্র রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। তবে এখনও বসুন্ধরার পাশেই রয়েছে রাজস্থানের গোটা বিজেপি ইউনিট। রাজস্থানের ৩০ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই দলের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো উচিত নয় বসুন্ধরাকে। এই পরিস্থিতিতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে। তারা বসন্ধুরাকে সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক চাপ খানিকটা হালকা করতে চাইছেন। তবে তৃণমূল ও কেন্দ্রের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার বিষয়টি এখনো মোদির কাঁধেই।

অবশ্য ওই জট কাটাতে বিজেপিতে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। শুক্রবার সকালেই বিজেপির সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ (শনিবার) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা মোদির।

সুষমা স্বরাজকে নিয়েও কোণঠাসা বিজেপি। তার বিরুদ্ধেই প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই বসুন্ধরাকে যদি রাজ্যস্তরে সরানো হয় তাহলে সুষমাকে সরানোর জন্যও চাপ আসবে।

অতীতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কৃষ্ণ মেননকে নিয়ে একই সমস্যায় পড়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কিছুদিনের জন্য কৃষ্ণ মেনন ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরে নেহরু তাকে ফেরত নিয়ে আসেন। মনমোহন সিংহের সময় টুজি কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে এ রাজাকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। কিন্তু চিদাম্বরমের মন্ত্রণালয় বদল করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় মন্ত্রী কানা মাঝি, লালু প্রসাদ যাদবও কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন।

শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি যদি তাদের না সরানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিহার নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী, লালু, নীতিশ ও বাম দলসহ সমস্ত বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে আন্দোলন করার সুযোগ পাবেন। মোদিবিরোধী কাজে আরো সরব হওয়ার সময় পাবেন তারা।

দলের ভেতর থেকেও মোদির ওপর চাপ বাড়ছে। ললিত মোদি বিতর্কে বিব্রত মোদির অস্বস্তি বাড়ালেন নিজ দলের নেতা আদভানিও।

প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে শিষ্যের কাছে হেরেছিলেন গুরু আদভানি। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে দল ও সরকারেও কার্যত ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন তিনি। ‘নখদন্তহীন’ সদস্য করে আদভানির ‘শোকগাথা’ প্রায় লিখেই ফেলেছে বিজেপি। ৮৭ বছরের ‘লৌহপুরুষ’ তবু ফুরিয়ে যেতে নারাজ। গত এক বছর মোদির দাপট তুঙ্গে থাকায় মুখ খোলেননি। কিন্তু ললিত-কাণ্ড নিয়ে ফের গা-ঝাড়া দিলেন তিনি।

আদভানি বললেন, দেশে আবারো জরুরি অবস্থা জারির যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। এ মন্তব্য নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে- বিরোধীরা তো বটেই, শাসক দলের বড় অংশও এটা মনে করছেন।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, কোনো সন্দেহ নেই সুষমা এবং বসুন্ধরাকে সরানোর ব্যাপারে এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ বেড়েছে। আর এটা মোদির এক বছরের শাসনামলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এক বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোদি যে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন, এ বিতর্ক তাতে কালিমা লেপন করতে পারে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print