বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » নোয়াখালীর জঙ্গি এখন পরেশ বড়ুয়ার দেহরক্ষী!

নোয়াখালীর জঙ্গি এখন পরেশ বড়ুয়ার দেহরক্ষী!

দুটো ছবিই পরেশ বড়ুয়ার

দুটো ছবিই পরেশ বড়ুয়ার

ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার প্রধান পলাতক পরেশ বড়ুয়া নিজের নিরাপত্তার জন্য এখন আর সংগঠনের সদস্যদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এ কারণে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন দুই বাংলাদেশি জঙ্গিকে। এরা দু’জনই হরকাত-উল জিহাদ-আল-ইসলামির (হুজি) সাবেক সদস্য।

ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমস শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে।

পাকিস্তানি ও চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ‘যোগাযোগ রেখে চলা’ পরেশ বড়ুয়াকে ‘জীবিত অথবা মৃত’ চায় নয়াদিল্লি। ভারত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য উলফা চলতি বছরের শুরুর দিকে নাগাল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএসসিএন-কে এবং অন্যান্য উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ফ্রন্ট গড়ে তোলে। চলতি বছর এ ফ্রন্ট মনিপুরে ১৮ সেনাকে হত্যাসহ বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এরপরই পরেশ বড়ুয়াকে ধরতে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নিজের দল উলফা যোদ্ধারা পরেশ বড়ুয়ার দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করলেও তাদের নিয়ে শঙ্কিত। তাই দেহরক্ষী হিসেবে দুই বাংলাদেশিকে ব্যবহার করছেন তিনি, যারা ২৪ ঘণ্টা তার সুরক্ষায় কাজ করে। এমনকি তারা বড়ুয়ার খাবারও রান্না করে দেয়, যাতে বিষ প্রয়োগের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

পরেশ বড়ুয়া নেতৃত্বাধীন উলফার দেড়শ’রও কম যোদ্ধা রয়েছে, যারা মিয়ানমারের স্যাগিং এলাকায় এনএসসিএন-কে’র গোপন আস্তানা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে। ২০১১ সালে পরেশ বড়ুয়া বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তারা সেখানেই অবস্থান করছে।

দলের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ায় গত বছর পরেশ বড়ুয়ার অন্যতম সহযোগী পার্থ প্রতীম গগৈ ও তার অনুসারীদের হত্যা করা হয়। এরপর থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীর সদস্য কমতে শুরু করে।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, তখন থেকে বড়ুয়া তার দলের ছেলেদের নিয়ে শঙ্কিত যে কে কখন তাকে হত্যা করে। সে তার নিরাপত্তার ব্যাপারে দুই বাংলাদেশিকে বিশ্বাস করে।

হিন্দুস্থান টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুই দেহরক্ষী হচ্ছে হুজির সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন ও তার চাচাতো ভাই মো. গোলাম নবী। তারা দু’জনেই বাড়ি নোয়াখালী জেলার করাতখিল গ্রামের বাসিন্দা। পাসপোস্ট অনুযায়ী তাদের বয়স ২৯ বছর। তাদের পাসপোর্ট নম্বর হল- এএ৮৩৯২২৬৪ এবং এএ১৪৬৩৪৪৮। একমাত্র আলমগীর ও নবীই চীন-মিয়ানমার সীমান্তের রুইলি ঘাঁটিতে পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে থাকেন। তারা তাকে সবজায়গায় সঙ্গ দেন এবং খাবারও রান্না করে দেন যাতে কেউ তাকে বিষ প্রয়োগ করতে না পারে।

আসামের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড়ুয়া যখন ঢাকায় গুলশানে মিশরীয় দূতাবাসের কাছে থাকতেন তখন তিনি এই দুই বাংলাদেশিকে ভাড়া করেন।

এ ব্যাপারে উলফা এখনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে বড়ুয়ার প্রতি সহানুভূতিশীলরা জানিয়েছেন, বড়ুয়ার ব্যাপারে নয়াদিল্লির তথ্য বিভ্রান্তির যে ক্যাম্পেইন চলছে এটি তারই অংশ।

পরেশ বড়ুয়া এখন কোথায়?
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, উলফা নেতা তার ঘাঁটি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং হয়ে রুইলিতে স্থানান্তর করেছেন। কুনমিং থেকে ঢাকার সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। তবে ধারণা করা হয়, পরবর্তী সময়ে পরেশ বড়ুয়া তেংচংয়ে চলে আসেন। মিয়ানমারের মানচিত্র অনুযায়ী তেংচং চীনের সীমান্তবর্তী এবং রুইলি থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে।

গত ৪ জুন মনিপুরে সেনাদের ওপর হামলার আগের দিন পরেশ বড়ুয়াকে এনএসসিএন-কে’র তাগা ঘাঁটিতে দেখা গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাগা অরুণাচল প্রদেশ-নাগাল্যান্ড ও মিয়ানমারের মাঝে অবস্থিত। এখান থেকে গাড়িতে, নৌকায় ও পায়ে হেটে তেংচংয়ে যেতে এক সপ্তাহ লাগে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভারতের মিজোরাম প্রদেশ সংলগ্ন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের মংডুতেও পরেশ বড়ুয়ার একটি ঘাঁটি রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমসের দাবি, মংডুতে ঘাঁটি স্থাপনের ব্যাপারে বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে সহযোগিতা পেয়েছেন পরেশ বড়ুয়া।

সূত্র: বাংলামেইল২৪ডটকম


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print