রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সরকারি » নেসলেকে বাঁচাতে চাইছে বিএসটিআই!

নেসলেকে বাঁচাতে চাইছে বিএসটিআই!

ম্যাগিভারতে ইনস্ট্যান্ট নুডলসের বাজারের ৮০ শতাংশই নেসলের দখলে। কোম্পানির ম্যাগি নুডলসে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসার উপস্থিতি ধরা পড়ায় তা নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। নেসলেও ভারতে ৫ কোটি ডলারের পণ্য ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বাংলাদেশে সিসার মান পরীক্ষা না করেই ম্যাগি নুডলস নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই। তাছাড়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড (বিডিএস) অনুযায়ী ইনস্ট্যান্ট নুডলসে সিসা পরীক্ষার কোনো প্যারামিটারও নেই।

নেসলের ম্যাগি নুডলসে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি ধরা পড়ায় গত ২০ মে পণ্যটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য। দিল্লিসহ দেশটির অন্যান্য রাজ্যও একই ম্যাগি নুডলসের বিষয়ে একই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও পণ্যটি পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় বিএসটিআই। কিন্তু মূল বিতর্ক যে সিসা নিয়ে, বিডিএসে না থাকায় তা পরীক্ষা করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বাংলাদেশে ম্যাগি নুডলসে সিসার উপস্থিতি আছে কিনা, তা স্পষ্ট করতে পারেনি বিএসটিআই। যদিও বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ম্যাগি নুডলস খাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বিবেচিত হয়েছে জানিয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে নেসলে বাংলাদেশ।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক ইকরামুল হক  বলেন, ইনস্ট্যান্ট নুডলসে সিসা পরীক্ষার প্যারামিটার না থাকলেও তাদের পরীক্ষাগারে এটির উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব। তবে পণ্যটিতে সিসা পরীক্ষাসহ আরো কয়েকটি প্যারামিটার যোগ করার ব্যাপারে টেকনিক্যাল কমিটিকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে।

সিসা পরীক্ষার প্যারামিটার না থাকার পরও বিএসটিআই সনদ দিল কীভাবে, এ প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান। গতকাল তিনি বলেন, খাদ্যে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ থাকলে কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে সিসা পরীক্ষার পর ভোক্তাদের তা জানাতে হবে।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ভারতের অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে বিএসটিআই। কোয়ালিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (সিসিআই) গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি সহজ হবে বলেই ধারণা। তবে ম্যাগি নুডলস ঘিরে বিএসটিআইকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। আর সেটা হলে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে সে দেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখে পড়বে বাংলাদেশী পণ্য।

এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএসটিআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা। তিনি বলেন, মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসটিআইকে তার সঠিকতা প্রমাণ করতে হবে। সেটার জন্য যথাযথভাবে পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে।

ভারতে ইনস্ট্যান্ট ম্যাগি নুডলসে মাত্রাতিরিক্ত সিসা ধরা পড়ার পর পণ্যটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএসএআই)। ভারতে ম্যাগি নুডলসে সিসার উপস্থিতি বাংলাদেশেও পণ্যটির বিক্রিতে প্রভাব ফেলে। এরই মধ্যে দেশে পণ্যটির চাহিদা কমে গেছে।

ম্যাগি নুডলস বিষয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেছে নেসলে। নেসলে বাংলাদেশের পক্ষে কোম্পানির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর নকীব খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিএসটিআই তাদের নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে বাজার থেকে ম্যাগি নুডলসের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। নমুনা পরীক্ষায় ম্যাগি নুডলস সম্পূর্ণ নিরাপদ বিবেচিত হয়েছে। নেসলে বাংলাদেশের উত্পাদিত ম্যাগি নুডলস দেশীয় (বিএসটিআই) ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাদ্যমানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ম্যাগি নুডলস বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে অবস্থিত নেসলে বাংলাদেশের নিজস্ব কারখানায় উত্পাদিত। নেসলে কঠোর খাদ্যনিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খাদ্যের মান নিশ্চিত করে।

যদিও বিএসটিআই সূত্র বলছে, সাধারণ নুডলসে সিসা পরীক্ষার প্যারামিটার থাকলেও ইনস্ট্যান্ট নুডলসে নেই। বিষয়টি নিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গতকাল বৈঠকও করে বিএসটিআই।

জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মান) রেজাউল করিম বলেন, ইনস্ট্যান্ট নুডলসে সিসা পরীক্ষার প্যারামিটার না থাকার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটি এ নিয়ে কাজ করবে।

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print