বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » সরকারি » জঙ্গিদের পরিকল্পনায় লুট-ছিনতাই-অপহরণ

জঙ্গিদের পরিকল্পনায় লুট-ছিনতাই-অপহরণ

Jongi1উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী মৌলবাদি জঙ্গিরা আবার বিভিন্ন কৌশলে অপ-তৎপড়তা চালানোর চেষ্টা করছে। দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে লুটের পরিকল্পনা করছে তারা। মূল দল থেকে আলাদা হয়ে নতুন নামে সংগঠিত দলগুলোর সঙ্গে মিশে গিয়ে সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে ছদ্মবেশে নাশকতার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশ (হুজি-বি) ও আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) নয় সদস্যকে রিমান্ডে নিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা।

ডিবি সূত্র জানায়, জঙ্গিরা আদর্শিকভাবে আগের মতো আর ঐক্যবদ্ধ নেই। বিদেশ থেকে আগের মতো অর্থ সহযোগিতাও পাচ্ছে না তারা। আবার পূর্বের সংগঠনগুলোতে সক্রিয় থাকার কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না। এ কারণে নিজেরাই একজন দলনেতা মনোনিত করে ২০/২৫ জনের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন তারা।

গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি সদস্য মাওলানা নুরুল্লাহ কাসেমী স্বীকার করেছেন, ঢাকা ও সৈয়দপুরের দু’টি ব্যাংকে ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। ওই দু’টি ব্যাংকে কিভাবে ঢুকতে ও বের হতে হবে, টাকার লকার কিভাবে ভাঙতে হবে তার বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে জেনেছিলেন তারা। নাশকতা চালানোর জন্য বোমা ও আধুনিক অস্ত্রও সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল। রেকি কাজ শেষ করে ওই দু’টি ব্যাংকের কোন কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী, সিসি ক্যামেরার ব্যবহার ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কি ধরনের কৌশল নিতে হবে তা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন তারা। তবে দলনেতাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন নয় জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার অভিযান তত্ত্বাবধানকারী ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন।

তিনি  বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুটি জঙ্গি দলের সদস্যরা শুধুমাত্র অর্থের জন্য ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করে সংগঠিত হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার পর ওই দুটি ব্যাংকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চিন্তাভাবনা চলছে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে আগের মতো অর্থ সুবিধা না পেয়ে তারা (জঙ্গি) এখন ডাকাতির পরিকল্পনা করে সংগঠিত হচ্ছে।’

গোয়েন্দাদের ভাষ্য মতে, তহবিল সংগঠনের জন্য ব্যাংক ডাকাতির উদ্দেশে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয় নবসৃষ্ট জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। এই জঙ্গি সংগঠনের দলনেতা নুরুল্লাহ কাসেমী ও তার ছেলে ফাহাদবীন নুরুল্লাহ কাসেমী দলীয় সদস্যদের নিয়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা লুট করতে একাধিক বৈঠকও করেন। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হুজি-বি নেতা মাওলানা আব্দুর রউফের সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন নরুল্লাহ কাসেমীসহ দলটির আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতা। রউফের নির্দেশেই মাওলানা নুরুল্লাহ কাসেমী নবসৃষ্ট এই দলটির আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে ব্যাংক ডাকাতি ছাড়াও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটের সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়াও এই সংগঠনের সদস্যরা ছিনতাই, চুরি, অপহরণের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে দলকে শক্তিশালী করারও চিন্তাভাবনা করেছিল।

আদর্শ বিচ্যুত হয়ে লুটের টাকা সংগঠনের কাজে ব্যবসা করার বিষয়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রশ্নের জবাবে নুরুল্লাহ কাসেমী বলেন, ‘রাষ্ট্রে ইসলামী নিয়ম নীতির বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখান থেকে অর্থ লুট করা ইসলামে জায়েজ আছে। জঙ্গিদের ভাষায়- এ আর্থ “গনিমতের” মাল।’

বাংলাদেশ জিহাদি গ্রুপের আধ্যাত্মিক নেতা নুরুল্লা কাসেমী এক সময় কুয়েতের একটি ইসলামি প্রতিষ্ঠানের খতিব ছিলেন। দেশে ফিরে পুরান ঢাকার লালমোহন দাস লেনসহ আরো কয়েকটি এলাকায় নতুন জঙ্গি সংগঠনের সংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। নতুন দলে তার ছেলে বোমা বিশেষজ্ঞ ফাহাদ বিন নুরুল্লাহজ কাসেমী ওরফে কায়েস বোমা তৈরির কারিগর ছিলেন। এই দলের অপারেশন হেড ছিলেন কাজী ইফতেখার খালেদ, ক্ষুদ্র আক্রমণ টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় নুরুল ইসলামকে। মো. রাহাত, দ্বীন ইসলাম, আরিফুল করিম চৌধুরী ওরফে আদনান, দেলোয়ার হোসেন ও ইয়াসিন আরাফাত দলটির বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত ছিলেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print