বৃহস্পতিবার , ১৯ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » রমজানে ভোগাবে বিদ্যুৎ

রমজানে ভোগাবে বিদ্যুৎ

ramadanআসন্ন রমজানে বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকবে বলে আশঙ্কা করছে খাত সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও সঞ্চালন জটিলতায় লোডশেডিং হবে বলে জানিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রমজানে সারা দেশে পিক আওয়ারে (সর্বোচ্চ চাহিদার সময়) বিদ্যুৎ চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট। এসময় এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকবে। তবে ইফতার ও সেহরি, তারাবি নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৮ জুন থেকে রমজান শুরু হতে পারে ।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, রমজানে এমনিতে বিদ্যুৎ চাহিদা বেশি থাকে। এছাড়া এবার আবহাওয়া বেশি উত্তপ্ত। তাই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে।

পিডিবির তথ্য মতে, এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে আট হাজার মেগাওয়াট। রমজানে এ চাহিদা আরো ৫০০ মেগাওয়াট বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৭ হাজার ৮১৭ মেগাওয়াট। গত ৫ মে এ রেকর্ড হয়। তবে প্রাথমিক ব্যবহার ও সঞ্চালন লস বাদ দিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ৭ হাজার ৩৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পৌঁছেছিল।

বিদ্যুৎ বিতরণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা সাড়ে সাত হাজার অতিক্রম করেনি। গত ৫ মে সর্বোচ্চ উৎপাদনের দিন ৭ হাজার ৩৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ উৎপাদন বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায়নি। ঘণ্টা দেড়েক পর কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। না হলে সঞ্চালন লাইনে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। ফলে রমজানে চাহিদার বিপরীতে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যদি উৎপাদন করাও যায় তা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমজানে লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তবে একই এলকায় দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং করা হবে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, রমজানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ রেশনিং করা হতে পারে। চাহিদা কমাতে রাত ৮টার পর শহরের দোকান বন্ধের নির্দেশনা আসতে পারে। নিষিদ্ধ হবে বিপণীবিতানের আলোকসজ্জা। রমজানে সন্ধ্যার সময় এসি, পানির মোটর না চালানোর জন্য পত্রপত্রিকার মাধ্যমে গ্রাহকদের সচেতন করা হবে।

এছাড়া উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য তদারকির জন্য পৃথক পৃথক দল গঠন করা হবে। ট্রান্সফরমার বিকল হলে ভ্রাম্যমাণ ট্রান্সফরমার বসিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিতে শিগগিরই একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হতে পারে। বিতরণ ও উৎপাদন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত থাকবেন।

গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, ‘রমজানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো থাকবে। এসময় যেন বিদ্যুতের ঘাটতি না হয় সেজন্য সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার উৎপাদন কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print