শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » রেলওয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে আরো ৮ জেলা

রেলওয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে আরো ৮ জেলা

1433858723রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে। অমিত আয়ের সম্ভাবনাময় রেল নানা কারণে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে তার উল্টো।  বিগত সময় অনেক রেলপথ বন্ধ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছা দিয়েছে। চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কমেছে যাত্রী সংখ্যা। কিন্তু আশার কথা সেই সব সমস্যাকে অতিক্রম করে এটি পরিণত হচ্ছে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে। যে সব যাত্রী এক সময় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারা আবার ফিরতে শুরু করেছেন। রেলওয়েকে আরো আধুনিকায়ন ও যাত্রী সেবা নিশ্চিতে সরকার ২০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্লান করে ব্যাপক উন্নয়নের  উদ্যোগ নিয়েছে। এ কার্যক্রমে অংশ হিসেবে দেশের আরো আটটি জেলাকে আনা হচ্ছে রেলওয়ে নের্টওয়ার্কের আওতায়। জেলাগুলো হচ্ছে -কক্সবাজার, বরিশাল, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ( খুলনা- মংলা), মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও বরগুনা। এ তথ্য জানিয়েছেন রেলভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। বর্তমানে সারাদেশে ৪৪ জেলায় রেলওয়ে নেটওয়ার্ক রয়েছে।
উপমহাদেশের বাংলাদেশ অংশে রেলওয়ে তার গৌরবময় যাত্রা শুরু করে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর। বর্তমানে রেলপথ রয়েছে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার। যারমধ্যে ৬৫৯ কিলোমিটার ব্রড গেজ, ১ হাজার ৮০৮ কিলোমিটার মিটারগেজ। এর মধ্যে ৪০৯ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেল লাইন।
রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন,  রেলওয়েকে একটি গণমুখী, নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক গণপরিবহণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রীদের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরনে সরকার কাজ করছে।  এ জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে আরো আট জেলায় রেলওয়ে নেটওয়ার্ক। আর বর্তমান সরকারের আমলেই সমগ্র রেলপথ ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করা হবে তিনি আশা করছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা রেলওয়েকে মানুষের দোরগড়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিদেশ থেকে রেলের ইঞ্জিনসহ বগি আনা হচ্ছে। আনা হচ্ছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও মালবাহী ওয়াগন। এ সবকিছু আসলে আমাদের রেলের বহরে আরো অনেকগুলো ট্রেন যোগ হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৫৭২ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন চলছে। এরমধ্যে তারাকান্দি হতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম ডাবল লাইনের কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন প্রায় ৭৯ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ চলমান আছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের শতকরা ৪৫ ভাগ শেষ হয়েছে এবং আগামী বছর ডিসেম্বরে সবটুকু শেষ হবে। এ ছাড়া পাচুরিয়া-ভাঙ্গা সেকশনের পুকুরিয়া-ভাঙ্গা ছয় কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। খুলনা হতে মংলা পর্যন্ত নতুন ৬৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও এলাইনমেন্ট নির্ধারণ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি আগামী ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আর এটি সম্পন্ন হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে।কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মায়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল ডুয়েলগেজ মিটার গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১২৯ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মিত হবে। এছাড়া পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ নির্মাণের জন্য ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা ৮২ কিলোমিটার এবং ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর ৮৪ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মিত হবে। নাভারণ হতে সাতক্ষীরা হয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print