শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » শিক্ষাঙ্গণ » এক মাসে আয় করতে হবে ৫০৫ কোটি ডলার

এক মাসে আয় করতে হবে ৫০৫ কোটি ডলার

dollarচলতি অর্থবছর রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। গতকাল প্রকাশিত রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৮১৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ হিসাবে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাকি এক মাসে আয় করতে হবে ৫০৫ কোটি ৫৬ লাখ ২০ ডলার।

জানা গেছে, সরকার রফতানি খাত থেকে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ২ হাজার ৯৯৪ কোটি ৩০ লাখ ৮ হাজার ডলার আয়ের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। সে লক্ষ্য থেকেও ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ দূরে রয়েছেন রফতানিকারকরা। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি খাত থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৭৩৭ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে প্রাথমিক পণ্য রফতানি খাতে আয় কমেছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১০৭ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রাথমিক পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ১১২ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। দেখা গেছে, গত অর্থবছরের তুলনায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি এবারের লক্ষ্যমাত্রার হিসাবেও গত ১১ মাসে প্রাথমিক পণ্য রফতানি আয় ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম হয়েছে। প্রাথমিক পণ্য রফতানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২৬ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে আছে হিমায়িত খাদ্য, চা, সবজি, ফল, শুকনা খাবার প্রভৃতি।

প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে যেসব উপখাতের রফতানি আয় কমেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিমায়িত খাদ্য ও কৃষিপণ্য। দুটি শ্রেণীর পণ্য থেকেই রফতানি আয় কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে হিমায়িত খাদ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৫২ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। এ হিসাবে আয় কমেছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এবার অর্থবছরের ১২ মাসে হিমায়িত খাদ্য রফতানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৩ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে অর্থবছরের বাকি এক মাসে ২০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের হিমায়িত খাদ্য রফতানি করতে হবে।

এদিকে শিল্পজাত পণ্য রফতানির বিপরীতে আয় অর্থবছরের গত ১১ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে শিল্পজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৬২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে শিল্পজাত পণ্য রফতানি বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ১৬৬ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ হিসাবে শিল্পজাত পণ্য রফতানিকারকদের বছরের বাকি এক মাসে আয় করতে হবে ৪৬৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

শিল্পজাত যেসব পণ্য রফতানি আয় কমেছে, সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো— চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প, কাঁচা পাট, বিশেষায়িত বস্ত্র খাত, ফার্নিচার। আর রফতানি আয় বেড়েছে, এমন শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাটজাত পণ্য ও তৈরি পোশাক।

চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প রফতানি থেকে এবার আয় কমেছে দশমিক ২৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এখান থেকে আয় হয়েছে ১০২ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১০২ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৩৯ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ হিসাবে বাকি এক মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিকারকদের আয় করতে হবে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

এদিকে কাঁচা পাট, বিশেষায়িত বস্ত্র ও ফার্নিচার রফতানি থেকে আয় কমেছে যথাক্রমে ১৪ দশমিক ১৭, ৪ দশমিক ৩২ ও ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। পাটজাত পণ্যের সুতা ও বস্তা রফতানি থেকে গত অর্থবছরের চেয়ে এবার যথাক্রমে ৩ ও ২৮ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। পোশাক শিল্পের নিট ও ওভেন পণ্য রফতানি থেকে যথাক্রমে ২ দশমিক ২৮ ও ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ আয় বেড়েছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বণিক বার্তাকে বলেন, জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা সবসময় বেশিই ধরা হয়। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির বর্তমান হার অনেক কম। এর কারণ গত অর্থবছর আর বর্তমান অর্থবছরের পরিস্থিতি এক ছিল না।

ইপিবি সূত্র অনুযায়ী, গত অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে (১১ মাস) ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় রফতানি প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি ছিল। ২০১৩-১৪-এর প্রথম ১১ মাসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এবার রফতানি প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার পেছনে ছিল অনিবার্য কিছু ঘটনা। এর মধ্যে আছে ৯২ দিনের হরতাল ও অবরোধ, যার কারণে রফতানিকারকদের ক্রয়াদেশ ঘাটতি হয়েছিল। এছাড়া ইউরো ও রুবলের পতনও দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে।

শুভাশীষ বসু বলেন, চলতি অর্থবছরে অনিশ্চিত পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের কিছু ঘটনাও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। যেমন— আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল, তুলা ও সুতার দাম কমে যাওয়ায় পণ্যের মূল্য কমেছে। যদিও পরিমাণগত দিক থেকে আমরা গত অর্থবছরের তুলনায় বেশি রফতানি করেছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছর শেষে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সম্ভব না হলেও ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় সম্ভব হবে।

রফতানিকারকদের সংগঠন ইএবির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, নানা অনিশ্চয়তার প্রভাবেই আমরা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। তবে আরো আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। আগামী অর্থবছর অবস্থা আরো শোচনীয় হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রফতানি খাতের উদ্যোক্তারা।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print