রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » খেলাধুলা » নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ও প্রসঙ্গ কথা

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ও প্রসঙ্গ কথা

omar_27062বদরুদ্দীন উমর 

২০১৪ সালের মে মাসে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির বিপুল নির্বাচন বিজয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কালবিলম্ব না করে তাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তিনি যেন তার প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশেই করেন! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তার মধ্যে দোষের কিছু ছিল না। এ ধরনের আনুষ্ঠানিক বার্তা রীতিসিদ্ধ।

কিন্তু এই বার্তার লেজ হিসেবে তিনি মোদিকে প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশে করার যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, সেটা ছিল অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক। এ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আসল চরিত্রের যে ইঙ্গিত এই অনুরোধের মধ্যে ছিল, সেই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত এক বছরে প্রায় ডজন দুই দেশ সফর করার পর ৬ জুন ঢাকা এসেছেন।

মোদির এই সফর নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। তার এই সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী ও বিশেষত তার সরকার ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে, এর মধ্যে কোনো স্বাভাবিকতা নেই। এর মধ্যে সমসম্পর্কের পরিচয় নেই।

এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্যই নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের বিগ ব্রাদার বা প্রভুত্বকারী ভাই নয়, ভারত হল বাংলাদেশের বড় ভাই! তিনি শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান সফর করার আগে এটা বলার কোনো প্রয়োজন মনে করেননি যে, তারা সেই দেশগুলোর বড় ভাই।

কিন্তু বাংলাদেশকে আদর করে ছোট ভাই বলার প্রয়োজন কেন হল, এটা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। এই প্রয়োজন ও অধিকার কি ভারতের হল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে পাকিস্তানিদের শাসনমুক্ত করে স্বাধীন করতে সহায়তা দেয়ার কারণে?

এ প্রশ্ন আপাতদৃষ্টিতে লঘু ও গুরুত্বহীন মনে হলেও এর মধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রকৃত চরিত্র নিহিত আছে।

বাংলাদেশ সফরে আসার আগে নরেন্দ্র মোদি তার টুইটারে অনেক কথা বলেছেন। তার মধ্যে ভারতের পার্লামেন্টের দুই কক্ষে ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট পাস করার বিষয়টি নিয়ে অনেক অতি উচ্ছ্বাস আছে। যে এগ্রিমেন্ট আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়া ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত হতো, সমসম্পর্কের পরিচায়ক হতো, সেটি বাংলাদেশের অশেষ ক্ষতিসাধন করার পর এখন পাস করে এই অতি উচ্ছ্বাস দেখানোর মধ্যে বিগ ব্রাদারসুলভ আচরণ ছাড়া আর কী আছে?

এত বছর ধরে এই এগ্রিমেন্ট ভারতের পার্লামেন্টে পাস না করানোর জন্য বাংলাদেশের কাছে মোদির যেখানে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল, সেখানে এ নিয়ে কোনো কৈফিয়ত পর্যন্ত তার বক্তব্যে নেই! এ প্রসঙ্গে বলা দরকার যে, চল্লিশ বছর ধরে বাংলাদেশের ভূমিদখল করে রাখার পর এখন এই চুক্তি পাস করায় ভারতের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে এই চুক্তি নিয়ে তারা এমনসব কথাবার্তা বলছেন যে, মনে হয়, এই চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করে তারা বাংলাদেশকে ভারতের ভূখণ্ড উপহার দিয়েছেন! লক্ষ্য করার বিষয়, এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বুদ্ধিজীবীদেরও কোনো কথা নেই। উপরন্তু এর জন্য তারা মহান নেতা নরেন্দ্র মোদির বন্দনা করতেই ব্যস্ত!

ল্যান্ড বাউন্ডারি চুক্তি পাস নিয়ে ভারতে এত হৈহল্লার কারণ তিস্তার পানি চুক্তি করার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই। অথচ তিস্তার পানি চুক্তি এখন বাংলাদেশের, এদেশের জনগণের ও অর্থনীতির জন্য সব থেকে বড় প্রয়োজন। এ চুক্তি যে মোদির সফরে হবে না, এ ঘোষণা তাদের বিদেশমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছেন যে, তিনি তার বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তার পানি চুক্তি বিষয়ে আলোচনা পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে করবেন না। এ পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশ সফরে এখন কেন এসেছেন এটা বোঝা মুশকিল। কারণ ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করার জন্য সংশ্লিষ্ট অন্য তিনটি রাজ্য আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীরা মোদির সঙ্গে বাংলাদেশে আসেননি। কারণ তার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের এ প্রয়োজন যদি না থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ঢাকায় এসে এতে স্বাক্ষরের প্রয়োজন কেন হবে?

ঢাকায় এসে ইলিশ মাছ খাওয়া ছাড়া তার প্রকৃত করণীয় এক্ষেত্রে আর কী আছে? বলাই বাহুল্য, ভারত সরকার এ পরিস্থিতিতে তিস্তার পানি চুক্তির মতো বাংলাদেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত যে বড় ভাইসুলভ আচরণ নয়, প্রভুত্বকারী প্রতিবেশীর আচরণ, এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্যই ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট নিয়ে তারা ঢাকঢোল পেটাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, জো-হুজুরগিরি করে বাংলাদেশ সরকার ও বুদ্ধিজীবীরাও এই বাদ্যবাদনে নির্লজ্জভাবে নিযুক্ত রয়েছে! তিস্তার পানি চুক্তির মুলো ভারত বাংলাদেশের সামনে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত যদি তারা এ চুক্তি করে তাহলে তাতে বাংলাদেশের পানির অংশ কত হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। পানি চুক্তির নামে একটা চুক্তি করে ভারত যদি বাংলাদেশের সামনে খুদ-কুঁড়ো ছুড়ে দেয়, তাহলে তাকেই পোলাও কোরমা বলে প্রচার করে বাংলাদেশ সরকার যে তাদের ভারত বন্ধুর কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে এবং তাদের গৌরব কীর্তন করবে, এ বিষয়ে অন্য ধারণার কারণ নেই।

দেশের স্বার্থ অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভর্তির যে কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে চলছে, তাতে এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রমী আচরণ এই সরকারের থেকে আশা করা মূঢ়তা ছাড়া আর কী? শুধু এই সরকারই নয়, বিএনপি এখন যেভাবে নরেন্দ্র মোদির পদতলে আত্মসমর্পণ করে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে, তাতে তাদের থেকেও অন্য কিছু আশা করলে তা হবে মূঢ়তার আর এক উদাহরণ।

মোদি বাংলাদেশ সফরে আসা উপলক্ষ্যে তার টুইটার বার্তায় ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট সম্পর্কে অন্য এক কথা যা বলেছেন, এটা ভারতের মতো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কীভাবে বলা সম্ভব তা বোঝার উপায় নেই। তিনি এই চুক্তিকে তুলনা করেছেন বার্লিন ওয়াল ভেঙে ফেলার সঙ্গে! সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী ক্রুশ্চভ বিভক্ত পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে এক চীনের প্রাচীর খাড়া করার চিন্তা থেকে সেই দেয়াল দিয়েছিলেন। সেটা ছিল দুই শত্রুরাষ্ট্রের মধ্যে এক বিভাজনের দেয়াল।

১৯৯০ সালে সেই দেয়াল ভেঙে ফেলে পশ্চিম জার্মানি পূর্ব জার্মানিকে আত্মসাৎ করে বিভক্ত জার্মানিকে পরিণত করেছিল অখণ্ড জার্মানিতে। এই তো হল বার্লিন ওয়ালের ইতিহাস। এর সঙ্গে বাংলাদেশের ভূমি ভারত কর্তৃক কয়েক যুগ দখল করে রাখার পর ল্যান্ড বাউন্ডারি চুক্তি বা স্থলসীমান্ত চুক্তির কী সাদৃশ্য?

এই চুক্তির পর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার বাংলাদেশকে ভৌগোলিকভাবে আত্মসাৎ করতে না পারলেও শোষণের মাধ্যমে আত্মসাতের শর্ত সৃষ্টি করেছে- এমন চিন্তা থেকেই কী মোদি সাহেব এই চুক্তিকে বার্লিন ওয়ালের পতনের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

এ ছাড়া তো এই উদ্ভট বক্তব্যের অন্য কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়ার উপায় নেই।
বাংলাদেশের স্বার্থ পদদলিত করে শোষণের এক কর্মসূচি সামনে রেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী আজ বাংলাদেশে এসেছেন মাত্র ৩৫ ঘণ্টার জন্য! সবকিছু আগে থেকে একেবারে সুচারুভাবে ঠিকঠাক করার পরই এই সফর হওয়ার কারণে এখানে আলোচনার বিশেষ কিছু না থাকায় বহু রকম গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি শুধু স্বাক্ষর করা ছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর অন্য কোনো কাজ নেই।

প্রধানমন্ত্রী মোদির এই শুভ আগমনের প্রতিদান হিসেবে বাংলাদেশ ভারতকে কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা পর্যন্ত ট্রানজিট দিচ্ছে। কলকাতা থেকে তাদের নিজেদের সীমানা দিয়ে গৌহাটির দূরত্ব ১৬০০ কিলোমিটারের বেশি। এই দূরত্ব এখন কমে দাঁড়াবে ৫০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ ভারত এখন ১১০০ কিলোমিটার পথ সংক্ষিপ্ত করে কলকাতা থেকে আগরতলা পর্যন্ত যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে শিলং ও গৌহাটি যাওয়ার ব্যবস্থাও হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের আন্তঃরাষ্ট্র যাওয়ার ব্যবস্থার মধ্যে অসুবিধার কিছু নেই। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা অবশ্যই আছে। কারণ এর ফলে ভারতের প্রভূত সুবিধা হলেও বাংলাদেশের বিশেষ কোনো লাভ নেই।

এক্ষেত্রে যা বলা দরকার তা হল, বাংলাদেশের লোকের জন্য ভারতে যাওয়ার বিষয়ে ভারত তাদের সঙ্গে ভিসা সংক্রান্ত যে ব্যবস্থা জারি রেখেছে, তার মধ্যে বন্ধুত্বের কোনো পরিচয় নেই। ভারতীয় ভিসা অফিস বাংলাদেশের মাটিতে থেকেই এদেশের ভিসা প্রার্থীদের ভিসা পাওয়া এক কঠিন ব্যাপারে পরিণত করেই ক্ষান্ত নেই, তারা এই ভিসা প্রার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে চলেছে। হয়রানির সঙ্গে এত ধরনের অপমানজনক আচরণ ভিসা আবেদনকারীদের সঙ্গে করা হচ্ছে, যা একমাত্র কোনো শত্রু দেশের পক্ষেই সম্ভব। বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতা নেই এ নিয়ে ভারত সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা। জো হুজুরগিরি করে তারা ভারতকে হাজার রকম সুবিধা দিলেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে এই দেশপ্রেমিকদের করার কিছুই নেই।

এদিকে মোদি সাহেব ঘোষণা করছেন, তিনি বাংলাদেশ থেকে প্লেনে ভারত যাত্রীদের জন্য on arrival ভিসার ব্যবস্থা করবেন। সে ব্যবস্থার জন্যও বাংলাদেশের যাত্রীদের অনেক আনুষ্ঠানিকতা ও হয়রানি পার হতে হবে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ইতিমধ্যে ভারত অসংখ্য দেশের নাগরিকদের এ সুবিধা আরও সহজে দিলেও বাংলাদেশের মতো বন্ধু রাষ্ট্রকে বড় ভাই হিসেবে এই সুবিধা দেয়ার বিষয়টিকে মোদি বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট উপহার হিসেবে ঘোষণা করেছেন! রেল ও বাসযাত্রীরা অর্থাৎ সাধারণ ভারত গমনেচ্ছুদের জন্য ব্যবস্থা থাকবে যথা পূর্ব তথা পরং! এই হল ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মৌলিক চরিত্র!

নরেন্দ্র মোদি ঢাকা এসে যেসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, তার বিবরণ এখানকার সংবাদপত্রে ও বৈদ্যুতিক মাধ্যমে কদিন থেকেই উৎসাহের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। এর মধ্যে মারাত্মক ব্যাপার হচ্ছে, ভারতের শিল্প বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্সকে সহজ শর্তে দেয়া নানা বিনিয়োগ সুবিধা। এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে ছিল নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনের শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের মূল জোগানদার। এরা ভারতের জনগণের হাজার রকম সর্বনাশ করে নিজেদের পুঁজি স্ফীত করছে। বাংলাদেশে মোদির সফরের সময় তাদের আবদার হল দক্ষিণ ভারতে তিন বছর ব্যবহার করা একটি পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রকে Relocate করে বা সরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসা। এ ধরনের প্রস্তাব আজ পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশ অন্য দেশের কাছে করেছে বলে জানা নেই।

রিলায়েন্সের এই প্রস্তাবের পরিণতি কী হবে সেটা পরের কথা; কিন্তু এ ধরনের প্রস্তাব যে তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে করতে সাহস করেছে এটাই এক উল্লেখযোগ্য ব্যাপার।

ভারত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ট্রানজিট সুবিধার জন্য অনেক দিন থেকেই চাপ দিয়ে আসছে। এর ফলে তারা আশুগঞ্জ থেকে ভয়ানক ভারি যন্ত্রপাতি আগরতলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পার করেছে। এবার তারা চট্টগ্রাম, আশুগঞ্জ ইত্যাদি নৌবন্দরগুলো নিজেদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। সুন্দরবন ধ্বংসের শর্ত সৃষ্টি করে এরা রামপালকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা কার্যকর করছে। এসবের ফলে অন্য যাই হোক, বাংলাদেশের নিরাপত্তা কীভাবে বিঘ্নিত হবে এটা এক হিসাবযোগ্য ব্যাপার।

কিন্তু এসব হিসাব বাংলাদেশ সরকারের নেই। বাংলাদেশে বিরোধী মতকে ফ্যাসিস্ট কায়দায় এরা প্রায় অনস্তিত্ব করে এনে এখন বেশ নিশ্চিতভাবে ভারতের খেদমতে নিজেদের নিয়োজিত রেখে দলীয়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের পথ সুগম করেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সুবিধা আদায় করে নরেন্দ্র মোদি দেশে ফিরে যাবেন।

অন্যদিকে বর্তমান সরকার নিজেদের জয়জয়কার ঘোষণা করে দেশপ্রেম ও গৌরব জাহির করে সংবাদপত্র ও বৈদ্যুতিক প্রচারমাধ্যম ভাসিয়ে দেবে। এই হল ১৯৭১ সালের স্বাধীনযুদ্ধের ৪৪ বছর পর বাংলাদেশের পরিণতি!

– See more at: http://onb24.com/%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6/#sthash.k3OGbG5b.dpuf


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print