বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়

সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়

modiবাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তির দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে ঐতিহাসিক এই ইন্দিরা-মুজিব সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময় করেন তারা। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন।

এর ফলে উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত সমস্যার সমাধান হলো। ছিটমহল বিনিময়ে চূড়ান্ত পথ চলা শুরু হলো।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ভারতের রাজনৈতিক কারণে এতদিন এটির বাস্তবায়ন হয়নি।

এর আগে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সীমান্ত চুক্তির ওপর সংশোধনী বিলটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়। পরে ভারতীয় পার্লামেন্টেও সর্বসম্মতক্রমে বিলটি পাশ হয়। সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়ের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ হাজার ছিটমহলবাসী তাদের স্থায়ী ঠিকানা পেল। দীর্ঘদিনের মানবেতর বন্দি জীবদ্দশা থেকে মুক্তি পেল। বিলটি পাশ না হওয়ায় এতদিন নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরও আটকে ছিল।

উল্লেখ্য, সীমান্ত চুক্তি বিনিময়ের ফলে দুই দেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের কাজ শুরু করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই সীমান্ত চুক্তির অধীনে ভারত ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। এসব ছিটমহলগুলোর আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের কাছে হস্তান্তর করবে ৫১টি ছিটমহল, যার আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর। এসব ছিটমহলে ৫৫ হাজার অধিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই দেশের বিরোধপূর্ণ জমি হস্তান্তরের ফলে ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে পাবে ২ হাজার ৭৭৭.০৩৮ একর জমি এবং বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে পাবে ২ হাজার ২৬৭.৬৮২ একর জমি। চুক্তিটি বাস্তবায়নের ফলে দু’দেশের মধ্যে সাড়ে ৬ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকে তিস্তা চুক্তিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print