শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আজ

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আজ

barcelonaজার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায় হবে ফাইনাল। শিরোপা জেতার দৌড়ে সমানে সমানে বার্সা-জুভেন্টাস। তাই ময়দানি লড়াই শেষ হওয়ার আগ অবধি বলার জো নেই কোন দলের হাতে উঠছে প্রতিযোগিতার ট্রফি।

বার্লিনের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বার্সেলোনা-জুভেন্টাসের লড়াইটা ইউরোপ-সেরা হওয়ার। লড়াইটা ‘ট্রেবল’ বা ত্রিমুকুট জয়েরও। বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস—দুদলই ঘরোয়া লিগ আর কাপ জিতে এরইমধ্যে দ্বিমুকুট পেয়ে গেছে। তাই আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফিটা যারা পাবে, ট্রেবল কিংবা ত্রিমুকুটও তাদেরই হবে।
ঘরোয়া লিগ, কাপ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ— এই ত্রিমুকুট জয় ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে আছে মাত্র ৭ বার। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিক প্রথম গড়েছিল কীর্তিটা। এরপর আয়াক্স (১৯৭২), আইন্দহোফেন (১৯৮৮), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১৯৯৯), বার্সেলোনা (২০০৯) ও বায়ার্ন মিউনিখ (২০১৩)। আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফিটা পেলে প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে দুবার ‘ট্রেবল’ জয় হওয়ার  গৌরব অর্জন করবে বার্সেলোনা। অন্যদিকে জুভেন্টাসের সামনেও সুযোগ অষ্টম দল হিসেবে এই অভিজাত তালিকায় নাম লেখানোর।

লা লিগায়  বার্সেলোনা ও সিরি ‘আ’ তে জুভেন্টাস  এই দুদলেরই মৌসুমটা কেটেছে দুর্দান্ত। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে সাম্প্রতিক বছরগুলোর পারফরম্যান্সেই হয়তো আজ বার্সেলোনাকে এগিয়ে রাখবেন অনেকে। ইউরোপীয় ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে দুই দলেরই এটি অষ্টম ফাইনাল। আগের ৭ বারের মধ্যে চারবার জয়ী বার্সেলোনা । অন্যদিকে জুভেন্টাস এর আগে ট্রফি জিতেছে দুবার, এমনকি চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের সর্বশেষ ফাইনাল খেলার স্মৃতিটাও প্রায় এক যুগ আগের। ২০০৩ সালে এসি মিলানের কাছে টাইব্রেকারে হারা ওই ফাইনালে ছিলেন বর্তমান জুভেন্টাস দলটির গোলরক্ষক—জিয়ানলুইজি বুফন। ৩৭ বছর বয়সি জুভেন্টাস অধিনায়কের কাছে সেটি বড় এক আক্ষেপ। কারণ অনেক ট্রফি ঘরে আসলেও, চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফিটাই অধরা রয়ে গেছে এখনও।  যদিও ইতালির হয়ে বুফন ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ট্রফিটা জিতেছিলেন এই বার্লিনেই।

বুফন সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চান আজ  ফাইনাল জিতে, ‘এটা আমাদের জন্য জীবন-মরণ ম্যাচ। সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করব ট্রফিটা নিয়ে যেতে।’

তবে বুফনদের সর্বোচ্চ চেষ্টাও বিফল হতে পারে যদি ছন্দে থাকেন লিওনেল মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ। এ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার এই ‘এমএসএন’ ত্রয়ীই করেছেন ১২০ গোল, যেখানে পুরো জুভেন্টাস দলের গোল সংখ্যা ১০৩। বার্সেলোনা আক্রমণভাগের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারতেন যিনি সেই জর্জো কিয়েলিনিকে ফাইনালের বাইরে ছিটকে দিয়েছে চোট। তবে কিয়েলিনিকে ছাড়াও যে জুভেন্টাস খুবই কঠিন দল, এটা মানছেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার হাভিয়ের মাশচেরানো, ‘ঐতিহ্যগতভাবে ওরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ। ওদের নিজস্ব কৌশল তো আছেই, অভিজ্ঞতা আর প্রতিভারও কমতি নেই। বার্সা কোচ লুইস এনরিকে তো নাম ধরেই বলে দিয়েছেন জুভেন্টাসের কোনও কোনও খেলোয়াড় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন, ‘আশা করছি, আন্দ্রেয়া পিরলো যেন এ ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। ও কী করতে পারে সেটা তো আমরা সবাই জানি। ওদের রক্ষণ দুর্দান্ত, পাশাপাশি আলভারো মোরাতা ভালোই গোল করতে জানে। আর কার্লোস তেভেজ তো বড় ভরসা।’

তার মানে পরিসংখ্যান যতই বার্সেলোনাকে এগিয়ে রাখুক, ফাইনালে লড়াইটা সমানে সমান হবে বলেই আশা করা যায়। এখন দেখার অপেক্ষা, লড়াই শেষে বার্লিনের মঞ্চে শেষ হাসিটা কোন দলের?


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print