সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » শিক্ষাঙ্গণ » করের আওতায় আসছে যা

করের আওতায় আসছে যা

TAXআসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করদাতা ও করের হার বাড়ানোসহ নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশের রাজস্ব আহরণকারী এই সংস্থাটি।

এনবিআর সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছর থেকে করের আওতা বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কর অফিস স্থাপন, সরকারি চাকরিজীবীর বেতন-ভাতার ওপর কর আরোপ, ন্যূনতম করের পরিমান বৃদ্ধি, প্রত্যেক বাড়িওয়ালাকে করের আওতায় আনা, পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয়ে উৎসে কর হার বাড়ানোসহ আসছে বাজেটে বেশকিছু খাতে কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। করের আওতা বাড়াতে এসব উদ্যোগের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন বলেও নিশ্চিত করেছে এনবিআর সূত্র।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রাজস্ব আহরণে করের হার না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী নিজেও করের আওতা বাড়ানোর পক্ষে। তাই রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে করের আওতা বাড়ানোর ওপরেই গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপজেলায় কর অফিস স্থাপন ও বাড়িওয়লাদের করের আওতায় আনাসহ নানান উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে করভীতি দূর করে সবাইকে এর আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক উপজেলায় কর মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। করদাতাদের নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারও আয়োজন করা হচ্ছে।’

উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস স্থাপন:
নতুন কর অফিস স্থাপনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কর প্রদানে সামর্থবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে করের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দিক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রত্যেক উপজেলায় আয়কর অফিস ‍স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ৬২টি উপজেলায়ে এ অফিস রয়েছে। খুব শিগগিরই সব উপজেলা তথা ৪৮৮টি উপজেলাতেই কর অফিস স্থাপন করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতার ওপর কর আরোপ:
আগামী অর্থবছর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরপর থেকেই তাদের ভাতাও করের আওতায় আসতে পারে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতন বাবদ যে টাকা পান, তার ওপরই মূলত কর দেন। মূল বেতনের বাইরে ভাতা থেকে যে আয় হয় তা ছিল করমুক্ত। তবে এবার নতুন বাজেটে মূল বেতনের সঙ্গে ভাতাও করের আওতায় আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রস্তবনাও দিয়েছে এনবিআর।

ন্যূনতম করের পরিমাণ বৃদ্ধি:
বর্তমানে জেলা সদরের পৌরসভা ও অন্যান্য এলাকার করদাতাদের জন্য পৃথক ন্যূনতম করহার রয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত সামর্থ্যবান করদাতাদের জন্য বছরে সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা, জেলা শহরে বসবাসকারীদের ২ হাজার টাকা ও অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে করের এ তিন স্তর ও সর্বনিম্ন করের হার পরিবর্তন করেছে এনবিআর। আগামী অর্থবছর থেকে সব করদাতাকে সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

রপ্তানি আয়ে উৎসে কর বৃদ্ধি:
করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের উৎসে কর দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দশমিক ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে এই প্রস্তবনা থেকে আরো বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। যা বাজেট প্রস্তাবনায় ঘোষণায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র। আর এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্য রপ্তানি আয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে।

করে বাড়তে পারে আরো যে খাতে:
মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়। এবারের বাজেটের পর এ খাতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর বসতে পারে। আমদানিতে অগ্রিম আয়কর বসতে পারে চাল, গম, ভুট্টা বীজ, সানফ্লাওয়ার অয়েল, চিনি, ন্যাপথালিন, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ঝুট, এমএস রড, কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিস, মোবাইল সেট, মডেম, রাউটারসহ আরো বেশকিছু পণ্যে। এছাড়া সব ধরনের ব্র্যান্ডের বিড়ি-সিগারেটের ওপর শুল্ক করহার বাড়তে পারে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print