মঙ্গলবার , ১৯ জুন ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » দীপুমণির মন্ত্রিত্ব হারানোর নেপথ্যে মমতার সাথে কথা কাটাকাটি!

দীপুমণির মন্ত্রিত্ব হারানোর নেপথ্যে মমতার সাথে কথা কাটাকাটি!

momotaগত সরকারের আমলে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে দীপুমণির ঝগড়ার রেশ ধরে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রিত্ব চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ আমলে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরকালে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মমতা বেঁকে বসায় তা হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মনমোহন সিংহ যখন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রণব মুখার্জি (বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রপতি) তার প্রধান সেনাপতি ছিলেন, তখন মমতার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তিস্তা চুক্তিটি অনুমোদন করিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাতে পরিস্থিতি আরো বিগড়ে যায়। মমতার দলের দীনেশ ত্রিবেদী তখন রেলমন্ত্রী। ইউপিএ সরকার ভেবেছিল, মমতা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ফলে রাজ্য সরকারকে জানানোর প্রয়োজন নেই। দীনেশের উপস্থিতিতেই কেন্দ্র এটা পাশ করিয়ে নেবে।
কিন্তু বৈঠকের আগেই দীনেশ ফ্যাক্স করে মমতাকে মন্ত্রিসভার তিস্তা চুক্তির খসড়াটি পাঠিয়ে দেন। সে প্রস্তাবটি পড়েই মমতা নির্দেশ দেন— তৃণমূল এই চুক্তির বিরোধিতা করবে। ফলে মন্ত্রিসভায় এটি পাশ করানো চলবে না। এমনকী এই চুক্তি জোর করে পাশ করাতে গেলে সরকার থেকে তৃণমূল সমর্থন প্রত্যাহার করবে, এ কথাও জানিয়ে দেন। ফলে মনমোহনকে পিছিয়ে আসতে হয়। দিল্লি এবং ঢাকা— দু’পক্ষই মমতার উপর রুষ্ট হয়। কিন্তু মমতাও জানিয়ে দেন, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ দেখাই আমার কাজ।’’
এর পর মনমোহন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননকে পাঠান তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার সমর্থন আদায়ের জন্য। তাতে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়। এর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি টি কে এ নায়ারকে কলকাতায় পাঠানো হয়। নায়ারের সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল। কিন্তু তিনিও বরফ গলাতে তিনি পারেননি।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব রঞ্জন মাথাইও মমতার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু ফল হয়নি।আবার কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি কলকাতায় মমতাকে তিস্তা চুক্তির প্রয়োজন বোঝাতে গিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা করে বসেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতার অনড় অবস্থান দেখে দীপু মণি রেগে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘তিস্তার পানি শুধু আপনাদেরই পানি নয়, আমাদেরও পানি। দরকার হলে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যালে যাব!’’ বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দীপুর এই আচরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অসন্তুষ্ট হন। পরের দফায় মন্ত্রিসভায় আর রাখাই হয়নি দীপু মণিকে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print