সোমবার , ১৮ জুন ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » টাওয়ার বানাতে পারবে না মোবাইল অপারেটররা

টাওয়ার বানাতে পারবে না মোবাইল অপারেটররা

mobile-towarদেশের মোবাইলফোন অপারেটরগুলো নতুন করে নিজেরা নিজেদের টাওয়ার নির্মাণ করতে পারবে না। ভিন্ন কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অবকাঠামো বানাতে হবে তাদের। নতুন টাওয়ার নির্মাণ এবং বিদ্যমান টাওয়ারগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হবে লাইসেন্সধারী দু’টি প্রতিষ্ঠানকে। এমনই একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে টেলিযোগা‌‌‌যোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। শুধু মোবাইলফোন অপারেটরই নয়, পিএসটিএন (ফিক্সড ল্যান্ডফোন) ও ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই নীতিমালার আওতায় আসবে।

জানা গেছে, বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে মোবাইলফোনের টাওয়ার নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দু’টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। কমিশন গাইডলাইন চূড়ান্ত করে তা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়েছে। টেলিযোগাযোগ বিভাগ অনুমোদন দিলেই কমিশন লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির সচিব সরোয়ার আলম বলেন, এই লাইসেন্সের অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে। এটা সম্ভব হলে দেশে মোবাইলফোনের টাওয়ারের সংখ্যা কমবে। অপারেটরগুলো টাওয়ার (অবকাঠামো) শেয়ার করলে ঘন ঘন এবং যত্রতত্র টাওয়ার বসাতে হবে না। ফলে সাশ্রয় হবে। পরিবেশ ভালো থাকলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও এড়ানো যাবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অপারেটর, পিএসটিএন ও ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সারাদেশে প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ টাওয়ার রয়েছে। এ বিশাল সংখ্যক টাওয়ারের মাত্র ১৫-১৬ শতাংশ ব্যবহার হয়। লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান দুটিকে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে টাওয়ার নির্মাণের বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেখানে কীভাবে টাওয়ার বানাতে হবে এবং অপারেটরগুলো কিভাবে সেই টাওয়ার শেয়ার করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইনে উল্লেখ করবে কমিশন। কমিশন সূত্র আরও জানায়, লাইসেন্স ফি হবে ৩ কোটি টাকা। আর বার্ষিক নবায়ন ফি দেড় কোটি টাকা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের একটি কোম্পানি কাজটি পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষায় রয়েছে। ওই কোম্পানি অনেক দিন ধরে বাংলাদেশে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন শীর্ষ কারিগরি কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কাজটি পাওয়ার জন্য ভেতরে ভেতরে তদবির চালিয়ে যাচ্ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক কর্মকর্তা কথা প্রসঙ্গে একদিন তাকে জানান, টাওয়ার নির্মাণ সম্পর্কিত কাজ তারা পেতে যাচ্ছে। ওই কারিগরি কর্মকর্তার দাবি, লাইসেন্স যে প্রক্রিয়াতেই দেওয়া হোক না কেন প্রতিষ্ঠানটি সে প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে বলে তাকে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print