শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » সরকারি » গড়ে প্রতিদিন খুন হচ্ছে ১১ জন!

গড়ে প্রতিদিন খুন হচ্ছে ১১ জন!

খুনদেশে প্রতিদিন গড়ে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটছে। প্রতি মাসে ধর্ষিত হচ্ছেন ৪০ জন নারী। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা। প্রতিদিন গড়ে ৩৮ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেলে।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে এক হাজার ৩০২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। হিসাব মতে, প্রতিদিন প্রায় ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের ৪ মাসে (সেপ্টেম্বর-১৪ থেকে ডিসেম্বর-১৪) সারা দেশে খুনের ঘটনা ঘটে ১৪৫৩টি। এই পরিসংখ্যান খোদ পুলিশ সদর দপ্তরের। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৩২৯, ফেব্রুয়ারিতে ৩০৯, মার্চে ৩৩৭ এবং এপ্রিলে ৩২৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জে খুনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এ রেঞ্জে চার মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৪১৫টি। আর পরের অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম রেঞ্জে এই সংখ্যা ২১৯টি। আর ঢাকা মহানগরে এ সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ৮০টি।

আর বেসকারি সংগঠন ‘অধিকার’ এর হিসাব মতে, চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে সারা দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৭৭টি। ক্রসফায়ার ৫৯টি। গুমের ঘটনা ২৮টি। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৩২টি। আর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ১৫৮টি (প্রতি মাসে প্রায় ৪০ জন)। এর মধ্যে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৬টি। ধর্ষণ করে খুন করা হয় ২০ জন নারী ও শিশুকে এবং ধর্ষিত হওয়ার পর আত্মহত্যা করেন ২ জন।

চলতি বছরে প্রথম ৪ মাসে পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেলে ৪হাজার ৫৬৬ জন পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে। গুরুতর অপরাধ বিবেচনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৮ জনকে। বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেয়া হয় ৭৮৭ পুলিশ সদস্যকে। চাকুরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে ৫৭ জনকে। লঘুদণ্ড দেয়া হয় ২ হাজার ২ জন পুলিশ সদস্যকে।

চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে রাজধানীসহ সারা দেশে এমন কিছু খুনের ঘটনা ঘটেছে যা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে দেশ-বিদেশে। খোদ রাজধানীতেই প্রকাশ্য দিবালোকে খুনের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই নারী লাঞ্ছিতের মত ঘটনা ঘটেছে। বাসায় ঢুকে খুনের ঘটনাও আছে অনেকগুলো। এছাড়া প্রকাশ্যে ছিনতাইয়েরও বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ করে রাজধানীতে গত কয়েকমাসে বেড়েছে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্মও।

কিন্তু এত সব ঘটনা ঘটার পরও খুব কম ঘটনারই রহস্য উম্মোচন করতে পেরেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আছে কৌশলী উত্তর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার এসব প্রসঙ্গে বলেন, যে কোন ঘটনা ঘটার পর সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যত দ্রুত সম্ভব এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু সব সময় সব ঘটনায় খুব বেশি সূত্র থাকে না। তাই কোন কোন ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কিছুটা বেশি সময় লাগে। কিন্তু এটার অর্থ এই নয় যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব আছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print