সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে মানব পাচারের বিচার

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে মানব পাচারের বিচার

rohingaসাম্প্রতিক সময়ের সারাবিশ্বে আলোচিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা পাচারের বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্র ও মূলহোতাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্রাইব্যুনালে বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসব অপরাধের বিচারে বিদ্যমান আইনেই পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচারে বিদ্যমান আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগে পর্যন্ত এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দায়িত্ব বিদ্যমান আইনেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনালকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ পর্যন্ত যেসব মামলা হয়েছে, তা বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালই যথেষ্ট। এ জন্য পৃথক কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজন নেই।’

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অবৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ছুটছে। এতে অনেকে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। বেশ কয়েক জন দালাল ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে। অনেককে আটকও করা হয়েছে। এদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে মানবপাচার প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করতে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় আইন মন্ত্রণালয়সহ আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

সভায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এসব অপরাধের বিচার করার পক্ষে কয়েকজন মত দিলেও আপাতত পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।
মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ২১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন অপরাধ সমূহের দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে যে কোন জেলায় মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।’

এই আইনের একই ধারার (২) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রত্যেক জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে উক্ত জেলার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসেবে নিয়োগ বা ক্ষমতায়িত করিতে পারিবে।’

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই আইন প্রণয়নের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় প্রায় ২০০ মামলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি মামলাও বিচারের জন্য প্রস্তত হয়নি। এমনকি মামলাগুলো পরিচালনার জন্য কোনো আইনজীবী বা সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও জিপি নিয়োগ দেয়া হয়নি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print