শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » ২ হাজার টাকায় উত্তরসহ প্রশ্নপত্র!

২ হাজার টাকায় উত্তরসহ প্রশ্নপত্র!

Question-1423236692এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে রীতিমতো ‘কামান’ দাগিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাদের এতো তোড়জোড় কোনো কাজেই আসেনি। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রোববার অনুষ্ঠিত রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের ফাঁসকৃত প্রশ্ন বাংলামেইলের হাতে এসেছে। যারা এ প্রশ্ন পেয়েছে তারা জানিয়েছেন, শুধু রসায়ন নয়, প্রায় প্রতি পরীক্ষার প্রশ্নই আগেই হাতে পেয়েছে তারা।

প্রশ্নপত্র পাওয়া পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রতি পরীক্ষার দেড় ঘণ্টা আগে অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৮টায় প্রশ্নপত্র পেতে ইচ্ছুকদের ইন্টানেটে ফ্রি কল ও কনটেন্ট আদানপ্রদানের সফটওয়্যার হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ছবি আকারে মূল প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। যেসব পরীক্ষার নৈর্ব্যক্তিক অংশ রয়েছে, সেগুলোর প্রশ্নপত্রসহ উত্তরও দেওয়া থাকে। প্রতিটি হোয়াটস অ্যাপের মেসেজের জন্য দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

রাজধানীর একটি নামি কলেজের এক পরীক্ষার্থী রোববারের রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন পান। তিনি বলেন, ‘আমার কিছু বন্ধু প্রতি পরীক্ষাতেই প্রশ্ন পায় বলে আমি শুনেছিলাম, যা হুবহু মিলে যায়। এমনকি প্রশ্নের সঙ্গে যেসব নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন রয়েছে সেগুলোর উত্তরও আগে থেকেই পায়। আমার রসায়ন পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না হওয়ায় তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মোবাইল না থাকায় প্রশ্নপত্র পাইনি। তবে তারা আমার এক বান্ধবীর কাছে হোয়াটস অ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে পাঠিয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে আমি পরীক্ষা দিতে বের হয়ে যাওয়ায় তা দেখতে পারিনি।’

ওই ছাত্রীর সহপাঠীদের একজনের সঙ্গে এরপর কথা হয়। সে বলে, এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে সে ও তার বন্ধুরা প্রশ্ন পায়। প্রতি প্রশ্নের জন্য তাদেরকে দুই হাজার টাকা করে দিতে হয়। এখন পর্যন্ত তারা ৬টি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিই ‘কমন’ পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম খান দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আর ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত চন্দ্র চন্দকে রোববার রাতে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যাতে প্রশ্ন ফাঁস হতে না পারে, তার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের প্রধানদের আইনের আওতায় আনার জন্য নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে প্রশ্ন ফাঁস হতে না পারে সেজন্য বিটিআরসির সাহায্যও চাওয়া হয়। নজরদারি চালানো হয় কোচিং সেন্টারগুলোর ওপরও।

প্রশ্ন ছাপানোর স্থান বিজি প্রেসে শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছাড়াও এর দুইশতাধিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা পুলিশ কাজও করে। এতকিছুর পরেও প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার এমন ঘটনা- এসব উদ্যোগের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print