বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৮ মামলার রায় ঘোষিত: অপেক্ষমান ১ টি

মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৮ মামলার রায় ঘোষিত: অপেক্ষমান ১ টি

ict২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিলো যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট দুই তৃতীয়াংশের বেশী আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এরপর, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল, তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়। প্রথমে ১টি ট্রাইব্যুনালে এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু পরে এ বিচারকে তরান্বিত করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এ ৮টি ও ট্রাইব্যুনাল-২ এ ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ১৮ মামলায় ২০ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে। অপেক্ষমান রয়েছে আরো ১ মামলার রায়।

এক নজরে রায়গুলোঃ

১। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দিয়ে প্রথম রায় ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ পাননি তিনি।

২। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে, আপিল বিভাগ এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। যা ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কার্যকর করা হয়।

৩। তৃতীয় রায়ে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।

৪। চতুর্থ রায়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ৯ মে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলেও কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রেখে রায় দেয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

৫। মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমীর গোলাম আযমকে গত বছর ১৫ জুন ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। এই পঞ্চম রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি অপেক্ষমান থাকাবস্থায় গতবছর ২৩ অক্টোবর কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে আপিলটি অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।

৬। .২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ষষ্ঠ রায়ে জামায়াতের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলের ওপর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি অব্যাহত রয়েছে।

৭। সপ্তম রায়ে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলও শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

৮। অষ্টম রায়ে ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। দন্ড ভোগ করা অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে গত ৩০ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

৯। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে দুই আল-বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে মৃত্যুদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল গতবছর ৩ নভেম্বর। দুজনেই পলাতক থাকার কারনে তারা আপিলের সুযোগ পাননি।

১০। গতবছর ২৯ অক্টোবর জামায়াতের বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয় দশম রায়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করেছে।

১১। জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে একাদশ রায় ঘোষণা করা হয় গতবছর ২ নভেম্বর। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

১২। দ্বাদশ রায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন ওরুফে খোকন রাজাকারকে মৃত্যুদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৩ নভেম্বর। পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ পাননি তিনি।

১৩। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার মোবারক হোসেনকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে গতবছর ২৪ নভেম্বর ঘোষিত হয় ১৩তম রায়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল দায়ের করেছে।

১৪। গতবছর ২৩ ডিসেম্বর টাইব্যুনাল ১৪তম রায়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল দায়ের করেছে।

১৫। গতবছর ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১৫ তম রায় ঘোষণা করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল দায়ের করেছে।

১৬। এইবছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ট্রাইব্যুনালের ১৬ তম রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুস সুবহানকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল দায়ের করেছে।

১৭। জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়ে এই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রায় ট্রাইব্যুনালের ১৭ তম রায়। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে।

১৮। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান এবং আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে এই বছরের ২০ মে ঘোষিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৮তম রায়।

এছাড়াও, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল। এই মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, আরো ২ মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একটির আসামিরা হলেন, বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও খান আকরাম হোসেন। অপর মামলার আসামি হলেন পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print