শনিবার , ২১ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » হ্যাপির ধর্ষণ মামলায় রুবেলকে অব্যাহতি

হ্যাপির ধর্ষণ মামলায় রুবেলকে অব্যাহতি

bnhappyজাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপির নারাজি খারিজ করে রুবেলকে অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইবুনাল।

বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল ক্রিকেটারকে রুবেলকে অব্যাহতি দেন।

আসামি রুবেলের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা জজ কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং হ্যাপির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন ও অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার।

১৭ মে নাজনীন আক্তার হ্যাপি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রুবেলের অব্যাহতির ওপর নারাজি দেন। নারাজিতে উল্লেখ্য করা হয়, মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হয়নি। এই মামলায় সাক্ষীদের কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি ভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে রুবেলকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন। আদালতে নারাজির উপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। এদিকে এ মামলা থেকে অব্যাহতিও চেয়েছেন রুবেল। আদালত উভয় পক্ষের আবেদন ওপর শুনানি শেষে পরবর্তী এ দিন ধার্য করেন।

চিত্রনায়িকা  হ্যাপির আইনজীবী তুহিন হাওলাদার জানান, হ্যাপি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেছেন। মামলার তদন্ত সঠিকভাবে না হওয়ায় হ্যাপি এ নারাজি দাখিল করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলার বাদী সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। নারাজি আবেদনে ছয়জন সাক্ষীর একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ১৯ এপ্রিল বিচারক এ দিন ধার্য করেন এবং শুনানির দিন বাদী ও আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার  নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত ১৩ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম (এমএম) আতাউল হক চূড়ান্ত অভিযোগপত্রটি স্বাক্ষর করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার সাহার (সিএমএম) আদালতে পাঠালে বিচারক মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ স্থানান্তর করেন।

এর আগে ২৯ মার্চ ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক হালিমা খাতুন আসামি রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতের মিরপুরের জিআর শাখায় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দানের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, নাজনীন আক্তার হ্যাপি প্রাপ্তবয়স্ক, মিডিয়াতে কাজ করা একজন সচেতন আধুনিক ব্যক্তি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া তিনি যদি রুবেলের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে থাকেন তাহলে সেটা তার সম্মতিসহ হয়ে থাকতে পারে। ধর্ষণের সংজ্ঞানুযায়ী বিবাহের প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই এ মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা জানান বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ১১ জানুয়ারি তিন দিন কারাবাসের পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস রুবেলকে  জামিনের আদেশ দেন। আদালত আদেশে বলেন, ‘পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত রুবেল হোসেনকে জামিন প্রদান করা হলো।’ এরপর রুবেল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে যোগ দেন এবং ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে দেশের বাইরে যান।

হাইকোর্ট থেকে নেওয়া আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে জামিন নামঞ্জুর করে রুবেলকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন আদালত।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর  হাইকোর্টের  বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাকে এ মামলায় চার সপ্তাহের আগাম  জামিন দেন। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর নাজনীন আক্তার হ্যাপি মিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেন- ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল হ্যাপির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে হ্যাপির অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। নবাগত এ নায়িকা ‘কিছু আশা কিছু ভালবাসা’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া তার কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print