বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » সালাহ উদ্দিনকে তৃতীয় কোনো দেশে নিতে চান স্ত্রী

সালাহ উদ্দিনকে তৃতীয় কোনো দেশে নিতে চান স্ত্রী

Salauddinভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং সিভিল হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সোমবার রাতে ‘আবেগঘন’ সাক্ষাৎ করেছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভালো চিকিৎসার জন্য তাকে ‘তৃতীয় কোনো’ দেশে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। যদিও এর কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করতে নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে সালাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান।

রোববার ভিসা পাওয়ার পরই রাতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। পুলিশের অনুমতি নিয়ে সোমবার ভারতীয় সময় রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বিসিসি বাংলা জানায়, এ সময় হাসিনা আহমেদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতাও ছিলেন। তারা প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎ শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভালো চিকিৎসার জন্য তাকে তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

দুপুরে কলকাতার দমদম এয়ারপোর্ট থেকে হাসিনা আহমেদ আসামের গুয়াহাটি রওনা দেন।  হাসিনা আহমেদ ও তার বোনজামাই মাহবুব কবির গুয়াহাটি নেমে ট্যাক্সি করে শিলং পৌঁছান ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে। এরপর তিনি ইস্ট খাসি হিল জেলার পুলিশ সুপার এম খারক্রাংয়ের কার্যালয়ে গিয়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি নেন। বিসিসির সংবাদে বলা হয়, সালাহ উদ্দিনকে কীভাবে মুক্ত করা যায় সেই বিষয়ে তিনি স্থানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

স্বামীর দেখাশোনা এবং চিকিৎসার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাসিনা আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, ‘তারা (আইনজীবীরা) একটি পরিবারকে আদালতে উপদেশ দিয়ে সাহায্য করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত করেননি।’

এদিকে সোমবার সকালে শিলং সিভিল হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক বিভাগে সিটি স্ক্যান করতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, তাকে চোখ বেঁধে ১২ ঘণ্টা ড্রাইভ করে শিলংয়ে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে থাকতে চাই না। আমি দাগি আসামি নই, আমি দেশে ফিরতে চাই।’

দুই মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর গত ১১ মে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে খোঁজ মেলে বিএনপির এই নেতার। অনুপ্রবেশের দায়ে তার নামে সে দেশে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম শিলং টাইমস জানিয়েছে, সালাহ উদ্দিনকে নিজ দেশে কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হবে, নাকি তাকে ভারতেই বিচার করা হবে, তা এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

মেঘালয়ের পুলিশপ্রধান রাজীব মেহতা বলেছেন, হাসপাতালের ছাড়পত্র পেলেই তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় সরকার যদি তাকে নিজে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আদালতের অনুমতি চায় এবং আদালত সেটা মঞ্জুর করেন তাহলে, বিএসএফের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print