বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আইন অনুমোদন

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আইন অনুমোদন

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আইন, ২০১৫-এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য `নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি অব বাংলাদেশ` শীর্ষক কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে ১ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেবে রাশিয়ান ফেডারেশন।

তিনি বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে ২০১৭ সালের জুন মাসে। এক হাজার মেগাওয়াট সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হবে ২০২১ সালের মধ্যে।’

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আইনে একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের কথা বলা হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আইনে কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের কর্তৃত্ব বা ভূমিকা, পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক সংস্থা হবে পরমাণু শক্তি কমিশন ও পরিচালনা সংস্থা হবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করেছে। এ কোম্পানির জন্য একটি বোর্ড থাকবে। বোর্ডের সভাপতি হবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব। পরিচালক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত বা যুগ্মসচিব, লেজিসলেটিভ বিভাগের যুগ্মসচিব, অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব, এফবিসিসিআইএর একজন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন চালু হবে তথন প্রকল্প বিলুপ্ত হয়ে তা কোম্পানির কাছে চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হবেন কোম্পানির প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাহলে ধারাবাহিকতা থাকবে, কাজের গ্যাপ (শূন্যতা) সৃষ্টি হবে না।’

পাবনার ঈশ্বরদীর প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের অনুমোদিত মূলধন হবে এক কোটি টাকা। তা ১০০ টাকা মূল্যের এক হাজার শেয়ারে তা বিভক্ত থাকবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বাংলাদেশের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের স্বপ্ন৷ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশে প্রায় চার দশক আগে জমি অধিগ্রহণও করা হয়। কিন্তু এরপর থমকে যায় কাজ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আবার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ২১ মে বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কিত সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর রাশিয়ার সঙ্গে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন কর্তৃক স্টেট ক্রেডিট প্রদান সংক্রান্ত একটি চুক্তি ও একটি পৃথক সমঝোতা স্মারক সই হয়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print