শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » এমভি কর্ণফুলী-৫ চালকের লাশ উদ্ধার

এমভি কর্ণফুলী-৫ চালকের লাশ উদ্ধার

এমভি কর্ণফুলী-৫ লাইটারেজ জাহাজের নিখোঁজ চালক নূর নেওয়াজের মৃতদেহ রোববার রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন খাঁন জানান, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারের মাছঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে রাতে লাশ ভাসতে দেখে নদীতে থাকা কয়েকজন স্থানীয় জেলে পুলিশে খবর দেয়।

তিনি জানান, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রোববার রাত দেড়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। জাহাজের মালিক লাশ শনাক্ত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদ উদ্দিন জানান, এর আগে সার বোঝাই কর্নফুলী লাইটারেজ জাহাজ ও এর তিন শ্রমিককে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। জাহাজে প্রায় দেড় কোটি টাকার সার ছিল বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ, শুক্রবারে চট্টগ্রাম থেকে সার বোঝাই এমভি কর্ণফুলী-৫ লাইটারেজ জাহাজটি ৯ জন শ্রমিকসহ ১০ জন আরোহী নিয়ে পাবনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

শ্রমিকরা জানান, চট্রগ্রাম থেকে জাহাজটি ছাড়ার আগে জাহাজের শ্রমিক শামীম হোসেনের আত্মীয় পরিচয়ে এক ব্যক্তি জাহাজে ওঠে। জাহাজটি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর চরআবদুল্লা এলাকায় পৌছঁলে জাহাজ শ্রমিক শামীম ও টিটু এবং শামীমের আত্মীয় মিলে জাহাজের চালক নূর নেওয়াজকে জিম্মি করে। পরে জাহাজের শ্রমিক থাকার রুমে তালা লাগিয়ে দেয়।

তারা জানায়, এরপর ২/৩ জন মিলে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেদম মারধর করে সকল শ্রমিককে বেঁধে রেখে জাহাজে থাকা মালামাল লুটে নেয়। এ সময় শামীম ও টিটু এবং শামীমের আত্মীয় মিলে গুরুতর আহত কয়েকজন শ্রমিককে টেনে নদীতে ফেলে দেয়।

শ্রমিকরা জানান, এরই মধ্যে এমভি কর্ণফুলী-৫ লাইটারেজ জাহাজটি নদীতে ভাসতে ভাসতে কমলনগর উপজেলার বাত্তিরঘাট এলাকায় নোঙ্গর করা অন্য একটি লাইটারেজ জাহাজকে ধাক্কা দেয়। এতে নোঙ্গর করা জাহাজের শ্রমিকরা বেরিয়ে এলে কর্ণফুলী জাহাজের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। পরে তারা গিয়ে এমভি কর্ণফুলী জাহাজের ভেতর থেকে আটক অবস্থায় মাহাবুব ও জাহিদুল ইসলাম এবং নদীর তীর থেকে পারভেজ নামে একজনকে উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্ণফুলী জাহাজটি আটক করে এবং তিন শ্রমিক-মাহাবুব, জাহিদুল ও পারভেজকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে পারভেজকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

শ্রমিকরা আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শামীমের সাথে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে অন্য শ্রমিকদের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলা ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড় কোনো ডাকাতি বা জলদুস্যদের হাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তারা।

এ ঘটনায় এনামুল হক মুকিত, আফছার পিয়াস, বাবুর্চিসহ কর্ণফুলী জাহাজের চার শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার পর থেকে জাহাজের শ্রমিক শামীম হোসেন, টিটু ও শামীমের ওই আত্মীয় পলাতক রয়েছেন।

এ ঘটনায় জাহাজের মালিক আবদুস সালাম জাহেদ বাদী হয়ে রোববার কমলনগর থানায় শ্রমিক শামীম হোসেন,পারভেজ, টিটু ও শামীমের আত্মীয়সহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

এদিকে এমভি কর্ণফুলী-৫ লাইটারেজ জাহাজে ডাকাতি হয়েছে দাবি করে নৌপথে চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাকে চট্টগ্রামের জাহাজ শ্রমিকরা। এতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস আটকে যাওয়ার পাশাপাশি নৌপথে পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে যায়।

ধর্মঘটে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় রোববার সন্ধ্যায় লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিআইজি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর প্রশাসনের আশ্বাসে নৌযান শ্রমিকদের একাংশ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও আরেক অংশ কর্মসূচিতে অনড় থাকে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print