বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » আস্ত রেললাইন উধাও!

আস্ত রেললাইন উধাও!

রেললাইনছবিতে দৃশ্যমান রাস্তাটি কোনো এক সময় এরকম ছিল না। এখানে এক রেললাইন ছিল। এখন আর রেললাইন নেই। ফেনী থেকে রেলপথে পরশুরামের দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। সেই ২৮ কিলোমিটারের অধিকাংশ রেললাইন তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনীয়া রেললাইন সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ হরিলুট হয়ে গেছে। ওবায়দুল কাদের যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী থাকা অবস্থায় একটি উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলগাজী উপজেলার মুন্সির হাট ইউনিয়নের বেশিরভাগ রেললাইন নেই। বিভিন্ন সময় দুর্বৃত্তরা তা তুলে নিয়ে গেছে।  স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখনও রাতের বেলায় অপরিচিত কিছু লোক আনাগোনা করে। এখন আশঙ্কা বাকি যেটুকু আছে তাও হয়তো আর থাকবে না। রেললাইন ছাড়াও সড়কের দু’ পাশের লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রেললাইনের পরিত্যক্ত ৮টি স্টেশনের সব ধরনের সরাঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে অনেক আগে।

জানা গেছে, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন ছিল পরশুরাম তথা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। বিলোনিয়ার রেলগাড়ি ছিল এক সময় ফেনীর উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্য। আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কি.মি. রেলপথ স্থাপনের জন্য ২৫ গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেন।

১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের যোগাযোগ শুরু হয়। চালুর পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যাতায়াত নিয়মিত থাকলেও লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ১৯৯৬ সালের শুরুতেই তৎকালীন সরকার ফেনী-বিলোনিয়া রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরশুরাম-ফুলগাজীর লক্ষাধিক লোকের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই রেল যোগাযোগ। এখন এসব উপজেলার যোগাযোগের মাধ্যম অটোরিকশা সিএনজি।

২০১২ সালে যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পরশুরাম ডায়াবেটিস হাসপাতালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী-বিলোনিয়া রেল যোগাযোগ মেরামত করতে ৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান। এখন শুধু একনেকে পাশ হবার অপেক্ষায়। তিনি আরো বলেছিলেন, রেললাইনের দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করবেন।

ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের ২৮ কিলোমিটার দূরত্বে ওই সময় আটটি রেলস্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে বেশির ভাগ পথ অবৈধ দখলে রয়েছে। স্টেশনগুলো হচ্ছে বিলোনিয়া, পরশুরাম, ধনিকুন্ডা, ফুলগাজী , পুরাতন মুন্সিরহাট, মুন্সিরহাট, আনন্দপুর, দৌলতপুর।

 নব নির্বাচিত ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম জানান, ২৮ কিলোমিটার এই রেল সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। আর না হয় বাকি যে রেললাইন রয়েছে তা সংরক্ষণ করলে সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

 পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল মজুমদার জানান, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। বিলোনিয়া স্থলবন্দরে আবার রেল যোগাযোগ চালু হলে সারাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিকারকরা স্বল্প খরচে পণ্য আনা-নেয়া করতে পারবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র বেড়ে যাবে। বিশাল এ সম্পদ রক্ষা করার মতো রেলওয়ের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সম্পদগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

 ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনে চুরির বিষয়ে ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ জানান, রেললাইন আলাদা একটি সংস্থা। তারা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা সব সহযোগিতা করবো। তবুও রেললাইনে রাতের আঁধারে চুরি ঠেকাতে টহল পুলিশকে পাহারা জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান বাংলামেইলকে জানান, মন্ত্রীরা অনেক কথাই বলেন। বাস্তবে ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথ মেরামতের কোনো উদ্যোগ আমার জানা নেই। রেললাইন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা তা রক্ষার্থে কোনো পদক্ষেপ আছে কি-না এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চট্টগ্রাম সিআরবিতে যোগাযোগ করতে বলে ফোন রেখে দেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print