শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বাস খাদে, নিহত ৪

বাস খাদে, নিহত ৪

accident-picকুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মিরপুর উপজেলায় বাস খাদে পড়ে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এসময় শিশুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৪০যাত্রী।

বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার নয় মাইল এলাকায় এ দুঘর্টনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বাসচালক পারভেজ রহমান (৩৪), জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার জাকের পার্টির সভাপতি ও কেশরপুর গ্রামের আলম মণ্ডল (৫০), একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৪০), আক্কেলপুরের নূরে আলম সিদ্দিক (৫৫)।

স্থানীয়রা, পুলিশ ও  ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন  বলেন, রাতে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানা এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে (ঢাকা চ-৩৬৯৮) করে সবাই ফরিদপুর জেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মিরপুর থানাধীন নয় মাইল কাচারী নামক স্থানে হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শবর্তী খাদে উল্টে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই বাসচালকসহ চারজন নিহত হয়। আহত হয় বাসের অন্তত ৪০ যাত্রী।

আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুর রশিদ (৪০), নাছিমা (৫৩), সেলিনা (২০) ও তার মেয়ে মারুফা (৩), রাফিয়া (৪৫), আবু বক্কর (৫৮), কালেমা বিবি (৫০), মামুন (২৫),সাহেদা (৩৭), নুরুল ইসলাম (৫৫), ছানোয়ার, বেনু, কালাম, হামিদ(৩৩), হেলাল (২৩), পারুল(২৬), শহিদুল (৫০), রমজান(৪২), জাভেদ, আছমা (২৪), ইনতাজ (৩৫), জোসনা (৫৫), আব্দুল মজিদ (৫৫), বেলাল হোসেন (৫৮),  আব্দুস ছাত্তার (২৮), মনোয়ারা (৪০), নুরুল (৪৫), পিংকী (১৫) ও আব্দুর রহমানসহ আহত অন্তত ৪০ জন যাত্রীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের সবারই বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানা এলাকায়।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজের সঙ্গে জড়িত এক নসিমন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাসের মূল চালক পারভেজ বাসের নিচে এমনভাবে চাপা পড়ে যে তাকে কোনোরকমে বের করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাসের চালক তখন সেই ব্যক্তিকে জানান, আমি বাসের মূল চালক। লালন শাহ সেতু পার হয়ে এসে হেলপারকে গাড়ি চালাতে বলে আমি বাসের গেটে দাঁড়াই। কিছুক্ষণ পর বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। একথা বলার কিছুক্ষণ পরে পারভেজ মারা যান।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুবিন্দ পাল বলেন, ‘আহতদের অনেককেই প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছি। এদের মধ্যে আব্দুর রশিদ, নাছিমা, সেলিনা ও তার মেয়ে মারুফা এবং  শহিদুলের অবস্থা একটু আশঙ্কাজনক।’

বাসের যাত্রী আব্দুল মজিদ  বলেন, ‘হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি আমার গায়ের উপর ৩জন পড়ে আছে। আমার পা উপরের দিকে আর মাথা নিচের দিকে। অনেকক্ষণ ধরে বেরোনের চেষ্টা করার পর বাসের গ্লাস ভেঙে বাইরে বের হয়ে আসি।

আব্দুর রহমান নামের এক যাত্রী  বলেন, ‘ড্রাইভার ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শবতী খাদে উল্টে যায়।

হাসপাতালে আহত সেলিনা খাতুন বলেন, ‘আমি আমার ৩বছরের মেয়ে রাফিয়াকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ করে দেখি সব কিছু ওলটপালট। আমার কোলে দেখি আমার মেয়ে নেই। পরে আর আমার কিছু মনের নেই। যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন আমি হাসপাতালে।

এ ঘটনায় সকালে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print