শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত আমার দেশ কার্যালয়

রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত আমার দেশ কার্যালয়

মাত্র দেড় ঘণ্টার অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ১১ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান দৈনিক আমার দেশ এর কার্যালয়। সেই সাথে আপাতত ধূলিস্মাত হয়ে গেল দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তিলে তিলে গড়া এ প্রতিষ্ঠানের সাত শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারির স্বপ্ন। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর ২০১৪)বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ বিএসইসি ভবনের ১১ তলায় অবস্থিত পত্রিকাটির কার্যালয়ে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত হয়ে যায় সাড়ে নয় হাজার স্কয়ারফিটের অভ্যন্তরে থাকা সব ধরনের যন্ত্রপাতি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের চালানো দেড় ঘণ্টাব্যাপী প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিনা বিচারে প্রায় দেড় বছর ধরে কারানির্যাতিত মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নিয়ন্ত্রণাধীন ও তার সম্পাদিত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটির কার্যালয়।
তবে অফিস শিফটের ঠিক একদিন আগে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনাকে রহস্যজনক উল্লেখ করে ঘটনার সূষ্ঠ তদন্ত ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিএসইসি ভবনের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এ দাবি করেন। একই সাথে এ দুঃসময়ে আমার দেশ-এর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ব গণমাধ্যম এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমার দেশ কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা পরিকল্পিত এবং রহস্যজনক।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, আমার দেশ কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হঠাৎ করেই রাজধানীর কাওরান বাজারের বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার (বিএসইসি)ভবনের ১১ তলায় ধোঁয়া উড়তে থাকে। ১১ তলায় আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় অবস্থিত। ধোঁয়া দেখে নিরাপত্তাকর্মীরা ভবনের ১১ তলায় আগুন লেগেছে বলে ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের চালানো দেড় ঘণ্টাব্যাপী প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার আলী আহম্মেদ খান বলেন, আমার দেশ কার্যালয়ে স্তুপ করা কাগজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্র্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা যায় নি।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে আমার দেশ এর শতাধিক কম্পিউটার, ১১ বছরের সংগৃহীত পত্রিকাটির সেন্ট্রাল সার্ভার, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, রক্ষিত পত্রিকা, কাগজপত্রসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে যায়।
ভবনটিতে অবস্থিত এনটিভি, আরটিভি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাসহ অর্ধশত বাণিজ্যিক অফিস রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কিছুক্ষণ পরই এনটিভি এবং আরটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তবে বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও চ্যানেল দুটির সম্প্রচার চালু হয়।
আমার দেশ পত্রিকার নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, শুক্রবার আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় নিকেতনে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফিস শিফটের ঠিক একদিন আগে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যজনক। আমার দেশের অফিস সহকারী আব্বাস আলী জানান, অফিস পরিবর্তনের জন্য সকাল থেকে আমরা কাজ করছিলাম। কয়েকটি এসি নামিয়েছিলাম। এরমধ্যেই স্টোর রুমে আগুন দেখতে পাই। ওই কক্ষের তত্ত্বাবধায়ক বাইরে থাকায় তাকে ডেকে এনে তালা খোলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।এদিকে, ভবন থেকে ভেঙে পড়া কাচের টুকরো লেগে ঘটনাস্থলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রতিবেদক মারুফ আল মুহিত আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসি ভবন থেকে আগুনের স্ফূলিঙ্গ ও ধোঁয়া আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের স্ফূলিঙ্গ থেকে বাঁচাতে বাপেক্স ও পল্লি ভবনে পানি দেওয়া হয়। আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু, আমার দেশ এর নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ প্রমুখ।
এর আগে ২০০৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এই ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সে সময় ভবনটিতে অবস্থিত এনটিভি, আরটিভি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাসহ অর্ধশত বাণিজ্যিক অফিস ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্মরণকালের ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার কাজে দেশে প্রথমবারের মতো বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print